ফরম ফিলাপে সিজস্ব রশিদে চাঁদা আদায় করছে ঢাকা আলিয়া ছাত্রলীগ

ফরম ফিলাপে সিজস্ব রশিদে চাঁদা আদায় করছে ঢাকা আলিয়া ছাত্রলীগ

ঢাকা, ১৩ নভেম্বর (জাস্ট নিউজ) : রাজধানীর বকশিবাজারস্থ সরকারি মাদরাসা-ই আলিয়ার ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ কামিল ২য় বর্ষের ফরম পূরণের জন্য নির্ধারিত ফি’র বাইরেও জোরপূর্বক পাচঁশত টাকা বাড়তি আদায় এবং শিক্ষার্থীদের মারধর করছে মাদরাসা শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

সোমবার এবং মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

ফরম পূরণ করতে এসে বিড়ম্বনার শিকার মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলছেন, মাদরাসা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসাইনের নেতৃত্বে অন্যান্য নেতাকর্মীরা ফরম পূরণের জন্য নিজস্ব রশিদের মাধ্যমে ৫শত টাকা করে বেশি আদায় করছে।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে মাদরাসার প্রিন্সিপাল প্রফেসর আলমগীর রহমানের মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনি এ প্রতিবেদকের আইডি কার্ড দেখে কথা বলবেন বলে জানান।

সাংবাদিক পরিচয়ে ফোন করার পরও তিনি কেন বিশ্বাস করছেন না জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক সাংবাদিক রয়েছে এমন। তিনি বলেন, আপনি আগামীকাল আসেন। তারপর আমি আপনার আইডি কার্ড দেখে কথা বলবো। অন্যথায় এ বিষয়ে কোনো কথা বলবো না। এ বিষয়ে কেন কথা বলবেন না জানতে চাইলে তিনি এর কোনো উত্তর দিতে পারেন নি। বরং কথা শেষ না করেই ফোন কেটে দেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর মাদরাসার ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। শাহাদাত হোসেনের সহযোগী মোক্তার হোসেনের নম্বরে ফোন করে তার সভাপতির সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তাতেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ফরম পূরণ করতে আসা একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ থেকে জানা যায়, মাদরাসার অফিসের সামনেই কাউন্টার বসিয়ে বাড়তি চাঁদা আদায় করছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। সেখানে জোরপূর্বক ফরম পূরণের জন্য অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে যা পরিশোধ করা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর। অথচ তারা এ টাকা আমাদেরকে একরকম বাধ্য করেই আদায় করছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, নিজস্ব রশিদের মাধ্যমে বাড়তি টাকা আদায় করলেও তারা কোনো রশিদ দিতে চাচ্ছে না। রশিদ চাইলে আবার নানা রকম অকথ্য ভাষায়ও গালাগাল করে কথা বলছে।

ফেরদাউস নামের একজন বলেন, অতিরিক্ত টাকা নিয়ে ফরম পূরণ করতে আসা এক ছাত্রের সাথে গতকাল মারামারিতেও লিপ্ত হয়েছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। তিনি বলেন, আমি মারামারি ছাড়াতে গেলে কয়েকটা কিলঘুষি আমার গায়েও লাগে। কারো সাথে একটু কথা কাটাকাটি হলেই মারধর করে করে ছাত্রলীগ। ওদের সংখ্যা অনেক, কেউ কথা বলে কিংবা হাতাহাতিতেও ওদের সাথে পেরে ওঠে না। তাছাড়া ছাত্ররা ভয়ে কারণে পিছু হটে চলে যায়।

মনিরুল নামের একজন অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রলীগ কেন টাকা নিচ্ছে তা জানতে চাইলে তারা গায়ে হাত তোলার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, ওই চাঁদার ভাগ প্রিন্সিপাল নিজেও পান বলে মাদ্রসারা একাধিক সুত্রে আমরা জানতে পেরেছি।

ফাজিলের ফরম পূরণের সময়ও অতিরিক্ত টাকা নিয়েছিলো ছাত্রলীগ। তারা সবসময় অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকে বলেও অভিযোগ এ শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের আরো অভিযোগ রয়েছে যে- অন্যান্য মাদরাসা থেকেও আমাদের মাদরাসায় সকল ফি’ই বেশি নেয়া হচ্ছে। গত মাসে আমাদের রেজিস্টেশন বাবদ ৩২০০ টাকা নেওয়া হয়েছে যা অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে অনেকটাই বেশি। আর ফরম পূরণেও অন্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি টাকা দেয়া লাগছে।

(জাস্ট নিউজ/এমআই/২০২৫ঘ.)