পরী ইস্যুতে শিল্পী সমিতির আচরণে ক্ষুব্ধ শাকিব

পরী ইস্যুতে শিল্পী সমিতির আচরণে ক্ষুব্ধ শাকিব

ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা পরী মণি গ্রেপ্তার হওয়ার পর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্প সমিতির আচরণ ‘বিতর্কিত’ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকাই সিনেমার শীর্ষ নায়ক শাকিব খান।

দীর্ঘ এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে শাকিব খান লিখেছেন, ‘গত কয়েক দিন ধরে খেয়াল করছি শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে পরী মণি গ্রেপ্তারের পর তার প্রতি কোনো ধরনের সহযোগিতার হাত না বাড়িয়ে, দুঃসময়ে শিল্পীর পাশে না থেকে উল্টো তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। মুহূর্তে পরী মণির সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে! এ যেন কাটা ঘায়ে নুনের ছিঁটে!’

পরী ইস্যুতে শাকিব প্রশ্ন তুলেছেন, ‘সমিতির এই আচরণ সত্যিই খুব রহস্যজনক। বিষয়টি নিয়ে বিবেকবান অনেক সিনিয়র জুনিয়র শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের আক্ষেপ রয়েছে। শিল্পীর সাথে সংগঠনের এটি একটি অমানবিক আচরণ। প্রশ্ন থেকে যায়, এখনকার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি তাহলে কাদের স্বার্থে?’

পরী মণির দুই সিনেমার নায়ক ও একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রনায়ক শাকিব আরও যুক্ত করেছেন, ‘বিগত দিনেও একাধিক সিনিয়র শিল্পী এর চেয়েও ভয়ঙ্কর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। কিন্তু তখনকার শিল্পী সমিতি অভিযুক্ত সদস্যের সদস্যপদ স্থগিত করেনি। বরং পাশে ছিল, রাস্তায় নেমেছিল। কিন্তু এখনকার শিল্পী সমিতির এসব আচরণ বিতর্কিত। আবারও বোঝা গেল, এই শিল্পী সমিতি সবাইকে এক করতে পারেনি, বরং বিচ্ছিন্ন করেছে। বিভেদ তৈরি করে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের পরিবেশ নষ্ট করেছে। হয়তো এ জন্য চলচ্চিত্রের আজ এই দুর্দশা। এমনিতেই নানা কারণে সিনেমা আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তার মধ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সামনে আরো ঘোর বিপদ।’

৪ আগস্ট পরী মণির বাসায় অভিযান চালিয়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) নানা ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ, ভয়ংকর মাদক এলএসডি (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডায়েথিলামাইড), ইয়াবা এবং আইস (ক্রিস্টাল মেথ) উদ্ধার করে। এর পর ৭ আগস্ট বিকাল ৫টায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ঢাকাই সিনেমার আলোচিত চিত্রনায়িকা পরী মণির সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত করে চলচ্চিত্র শিল্পীদের স্বার্থ সংরক্ষণে গঠিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি।

বর্তমানে চিত্রনায়িকা পরী মণি রিমান্ড শেষে কারাগারে আছেন।