হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করতে লেবাননে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরু করবে ইসরাইল

হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করতে লেবাননে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরু করবে ইসরাইল

লেবাননে হামলার অপারেশনাল প্ল্যান অনুমোদন করেছে ইসরাইল। দেশটির সেনাবাহিনী মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে। বলেছে, সীমান্তে ইসরাইলি সেনা ও যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে গুলি বিনিময়ের পর এই অপারেশন অনুমোদন ও বৈধতা দেয়া হয়েছে।

তারা বলেছে, নর্দার্ন কমান্ডে পরিস্থিতি মূল্যায়নে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সিনিয়র কর্মকর্তারা যৌথ এক বৈঠক করেছে। তাতে এই অনুমোদন দেয়া হয়। এরই মধ্যে হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করে দেয়ার অঙ্গীকার করেছে ইসরাইল। লেবাননে কঠোর হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

এই অনুমোদন দেয়ার ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে লেবাননে হিজবুল্লাহকে টার্গেট করে হামলা চালাতে পারে ইসরাইল। ফলে তাতে ইসরাইল-হামাস যুদ্ধের মধ্যেই নতুন করে ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধ শুরু হওয়ার এক আতঙ্ক বিরাজ করছে। গাজার মতো হিজবুল্লাহর টার্গেটে হামলার নাম করে যদি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইসরাইল, তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

তারা গাজায় এই কাজটিই করেছে। এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধের সূচনা হতে পারে। এমনিতেই মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার কড়াইয়ের ওপর বসে আছে। যদি তাকে এভাবে উস্কে দেয়া হয়, তাহলে পুরো অঞ্চল চরমভাবে অস্থিতিশীল হতে পারে। তার প্রভাব পড়বে বিশ্ববাজারে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী বিবৃতিতে বলেছে, তাদের সেনাবাহিনী মাঠপর্যায়ে প্রস্তুত আছে। উল্লেখ্য, ৭ই অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে লেবাননে হামাসের মিত্র হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে প্রায়দিনই গুলি বিনিময় হয়। এর আগে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল কাটজ সতর্ক করেছিল হিজবুল্লাহকে। তারা বলেছিল, যদি তাদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধশুরু হয় তাহলে হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করে দেয়া হবে। ইসরাইল কাটজ বলেন, হিজবুল্লাহ ও লেবাননের বিরুদ্ধে এই গেমের নিয়ম পরিবর্তনে শিগগিরই আমরা পরিবর্তন আনবো- এমন একটি মুহূর্তের খুব কাছাকাছি। একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে হিজবুল্লাহকে ধ্বংস করে দেয়া হবে এবং লেবাননে কঠোর হামলা চালানো হবে।

এ মাসে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, প্রয়োজন হলে লেবাবনে তীব্র হামলা শুরু করতে প্রস্তুত সেনাবাহিনী। ফলে তিনি দেশটির উত্তরের সীমান্তে নিরাপত্তা কঠোর করেন। ওদিকে মঙ্গলবার দিনের শেষের দিকে লেবাননে অবস্থান করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত আমোস হোচস্টেইন। এর আগের দিন তিনি সাক্ষাত করেন ইসরাইলি নেতাদের সঙ্গে। তাতে ইসরাইল-লেবানন সীমান্তে জরুরি ভিত্তিতে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চালান তিনি।