গণতন্ত্র বিনষ্ট ও দুর্নীতির দায়ে আজিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা: মির্জা আলমগীর

গণতন্ত্র বিনষ্ট ও দুর্নীতির দায়ে আজিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা: মির্জা আলমগীর

বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্র বিনষ্ট ও দুর্নীতির দায়ে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

তিনি বলেন, ‘এখানে কেস দেখানো হয়েছে, গণতন্ত্র বিনষ্ট ও দুর্নীতির দায়। সরকার বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী, বিচার বিভাগসহ সকল প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করেছে। এমনকি সংবাদিকদের লেখার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই।’

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে এক স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের ৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভার আয়োজন করে জাগপা।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুর্নীতির ব্যাপারে আমরা হাজারবার বলেছি। সারা দুনিয়া বলেছে। তারা অস্বীকার করেছে। এখন খবর এসেছে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এসেছে।’

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, ‘আজিজ আহমেদকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণ দুর্নীতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রভাবিত করা এবং জনগণের বিশ্বাস ক্ষুণ্ন করা। এই কথাটাই আমরা বলার চেষ্টা করেছি।’

সরকারের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা ব্যবহার করেছেন রাষ্ট্রযন্ত্রকে, ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন সেনাবাহিনীকে, ব্যবহার করেছেন বিচার বিভাগকে, প্রশাসনকে। ভয়ের রাজত্ব তৈরি করেছেন।’

এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘নিজের ঘর নিজে সামাল দিতে না পারলে অন‌্য কেউ সামাল দেবে না। অনেকেই আজিজের নিষেধাজ্ঞা এসেছে দেখে খুশি হবেন। আমি মনে করি, এটা বিভ্রান্ত করা। বিভ্রান্ত হচ্ছি আমরা সব সময়। র‌্যাবের কয়েকজনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তাতে কি ওদের ভয়ংকর যাত্রা বন্ধ হয়েছে? হয়নি। নিজের শক্তি নিয়ে তাদের পরাজিত করতে হবে।’

কখনো হাল না ছেড়ে বুকের মধ্যে শক্তি, বল ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির অন্যতম শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘তরুণেরা কোথায়? দেশ যে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তাদের মধ্যে কোনো অনুভূতি নেই? আলোড়িত করে না? দেশটা তাদের, ভবিষ্যৎ তাদের।’

সরকারকে উৎখাত করার ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয় জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা উৎখাত করতে যাব কেন? ভোটের অধিকার চাই, ভোটের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজিত করতে চাই। প্রয়োজনে আরও ত্যাগ স্বীকার করতে চাই।’
মির্জা ফখরুল বলেন, জোটের সঙ্গে তাদের কাজ চলছে এবং ঐক্য আরও বৃদ্ধি পাবে।

জাগপার নেতা শফিউল আলম প্রধানকে স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই দুঃশাসনের সময়ে তাকে প্রয়োজন ছিল।
জাগপার সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ বক্তৃতা করেন।