আজিজ আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞার জন্য দায়ী সরকার: মির্জা আলমগীর

আজিজ আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞার জন্য দায়ী সরকার: মির্জা আলমগীর

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার জন্য সম্পূর্ণভাবে সরকার দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এর আগে বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব। প্রায় ১ ঘণ্টাব্যাপী এই সভায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক, সদস্য সচিব এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি, আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক, সদস্য সচিববৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আজিজ আহমেদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে দেখুন, কত বড় লজ্জার কথা। সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের বিরুদ্ধে আমেরিকা থেকে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। যেটা আমাদের জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাস্কর। এজন্য দায়ী কে? দায়ী সম্পূর্ণভাবে সরকার। তারা সেনাবাহিনীকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করার কারণেই আজকে এই ঘটনাটি ঘটেছে। আজকে বাইরে মিডিয়াগুলো থেকে অনেকবার আজিজের কথা বলা হয়েছিলো। কিন্তু সরকার সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

শুধু তাই নয়, এখনো তারা যেটা বলছেন, রাজনৈতিক কথাবার্তা। সেনাবাহিনী হচ্ছে, আমাদের সবচেয়ে ভরসার একটা প্রতিষ্ঠান। সেই সেনাবাহিনীকে যদি সরকারের কারণে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়, সেটা কখনোই এদেশের মানুষ মেনে নিবে না।

এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, র‌্যাবের যেসকল কর্মকর্তার উপর নিষেধাজ্ঞা আসলো, তা থেকে তো তারা (সরকার) কোন শিক্ষা নিলেন না। তাদের মধ্যে একজন আইজিপিও হলেন। এখনো মনে হয় আছেন। এটার কতটুকু প্রভাব এদের উপরে পড়ে আমার ধারণা নেই। তারা (সরকার) তাদের ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্যকে চূড়ান্ত করবার জন্য এই বাহিনীগুলোকে ব্যবহার করে।

অনুষ্ঠিত দুটি উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, এই নির্বাচন নিয়ে কোথাও প্রতিক্রিয়া দেখছি না এবং কেউ লক্ষ্যও করছে না নির্বাচন হচ্ছে। কোথাও আলোচনা এবং কথাবার্তাও নাই। নির্বাচন ব্যবস্থার উপরেই মানুষের আস্থা চলে গেছে। এই সরকার এটা করেছে। সফলভাবে করেছে।

ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের মরদেহ ভারতে উদ্ধার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিক নয়- তাদের (বাংলাদেশ সরকার) তথাকথিত সংসদ সদস্য বিদেশে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে গেলেন, তার কোন খবর তারা (বাংলাদেশ সরকার) দিতে পারলেন না। না পারলো বাংলাদেশ সরকার, না পারলো তাদের বন্ধু রাষ্ট্র ভারত। আমরা কী মনে করবো? এটার একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে দুর্নীতি করা। টাকার পাহাড় তৈরি করা, বিদেশে পাঠানো।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গোলাম মাওলা রনির গাড়িতে হামলা হয়েছে। কেনো? কারণ একটাই, গোলাম মাওলা রনি তার বিভিন্ন বক্তব্যে মধ্যে দিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। অর্থাৎ সমালোচনা করা যাবে না। কারণে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করা হয়েছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের শাহাদাতকে কখনো আমরা খাটো করে দেখতে পারি না, বা একটা সাধারণ ঘটনা মনে করি না। একটা গভীর চক্রান্তে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে একটা পরনির্ভরশীল নেতৃত্ব সৃষ্টির কারণেই সেদিন সেই জাতীয়তাবাদী নেতা জিয়াউর রহমানকে হত্যার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে বিনষ্ট করে দেয়।

তিনি বলেন, আজকের শাসকগোষ্ঠী জিয়াউর রহমানের নামটা মুছে ফেলতে চায়। ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে চায়। তাকে খলনায়কে পরিণত করার জন্য তারা সেই কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিক স্কুল থেকে শুরু করে সব জায়গায় তারা সেই একই ধরনের কথা বলছে এবং সস্পূর্ণভাবে ইতিহাসকে বিকৃত করা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জিয়াউর রহমান না কী বাকশালে যোগ দিয়েছিলেন! এটা পুরোপুরিভাবে একটা সত্যের অপলাপ করেছেন। মেজর হাফিজ (বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ যিনি তার (জিয়াউর রহমান) ওই সময়ের সহকর্মী ছিলেন, তিনি আমাকে বলেছেন-এটা সম্পূর্ণ একটা মিথ্যা কথা। জিয়াউর রহমান সাহেব কখনোই বাকশালের ফরম পূরণ করেননি। এভাবে মিথ্যা কথা বলে বলে তারা জিয়াউর রহমান সাহেবকে একটা ভিন্নভাবে পরিচিত করতে চান।