হিজবুল্লাহ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ফের অস্ত্রের ধরনা ইসরায়েলের

হিজবুল্লাহ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ফের অস্ত্রের ধরনা ইসরায়েলের

গাজায় হামাসের সঙ্গে ৯ মাসের যুদ্ধের পর এখন লেবাননের রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে পূর্ণ মাত্রায় যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছে ইসরায়েল। দুই পক্ষই অনড় অবস্থানে থাকায় যেকোনো মুহূর্তে এই যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের শক্তি-সামর্থ্যের জোগান বাড়াতে গাজার রাফাহ থেকে সেনা ও যুদ্ধ সরঞ্জাম সরিয়ে লেবানন সীমান্তের কাছে নিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। একইসঙ্গে আরও অস্ত্র পেতে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছুটে গেছেন প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। কারণ, হামাসের চেয়েও হিজবুল্লাহর আরও পেশাদার সেনাবাহিনী ও উন্নত অস্ত্র রয়েছে। খবর এপির।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট রোববার মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে ওয়াশিংটনে পৌঁছান। এই সফরে গাজা যুদ্ধ ও লেবাননের সঙ্গে সংঘাত পরিস্থিতি ও হামাসের হাতে জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। একইসঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন, সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলবেন গ্যালান্ট।

শনিবার রাতে ইসরায়েল ত্যাগ করার আগে গ্যালান্ট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান মিত্র। আমাদের সম্পর্ক এই সময়ে আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসরায়েলে অস্ত্রের চালান বিলম্বিত করার জন্য ওয়াশিংটনকে অভিযুক্ত করার পাঁচ দিনের মাথায় গ্যালান্টের এই সফর। যদিও হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি নেতানিয়াহুর এমন অভিযোগকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘আমার কাজ হলো আমাদের বীর যোদ্ধারা যাতে তাদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র পান তা নিশ্চিত করার জন্য সবকিছু করা।’

গাজা যুদ্ধের পাশাপাশি লেবাননের সঙ্গেও সংঘাতে জড়ানোর ফলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ওপর আরও চাপ পড়বে। কারণ ইসরায়েলি বাহিনী এখনও উত্তর ও মধ্য গাজায় হামাসের সঙ্গে চরম লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালেও হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়।