ফ্রান্সে নতুন রাজনৈতিক হিসাব, সকালেই পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর, বিভক্ত ফ্রান্স

ফ্রান্সে নতুন রাজনৈতিক হিসাব, সকালেই পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর, বিভক্ত ফ্রান্স

ফ্রান্সে আগাম নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার কথা ছিল উগ্র ডানপন্থি ন্যাশনাল র‌্যালির। তার পরিবর্তে তারা নেমে গেছে তৃতীয় অবস্থানে। সবাইকে চমকে দিয়ে বামপন্থি জোট নিউ পপুলার ফ্রন্ট সবচেয়ে বেশি আসন নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে। মাত্র চার সপ্তাহ আগে আকস্মিকভাবে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন নির্বাচন ঘোষণা করার পর এই নির্বাচনকে ঘিরে ফ্রান্স বিভক্ত হয়ে পড়ে। নানা রকম মেরুকরণ হয়।

প্রথম দফার নির্বাচনে যখন দেখা যায়, অভিবাসীবিরোধী উগ্র ডানপন্থি মেরি লা পেনের ন্যাশনাল র‌্যালি চমক দেখাতে চলেছে, তারপরই দ্বিতীয় দফার ভোটে ম্যাক্রনের এনসেমবল জোট এক হয়ে বেশির ভাগ আসনে তাদের একজন প্রার্থী রেখে বাকিদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায়। ফলে সেই ফাঁদে পড়ে ন্যাশনাল র‌্যালি তৃতীয় অবস্থানে। অন্যদিকে দুর্বল অবস্থা থেকে শীর্ষে উঠে আসতে পারেনি ম্যাক্রনের এনসেমবল জোট। তারা দ্বিতীয় অবস্থানে। এর ফলে ফ্রান্স এখন পাবে একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট।

কারণ কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এর জন্য অস্বাভাবিক রাজনৈতিক জোটকে দায়ী করেছেন ন্যাশনাল র‌্যালি দলটির ২৮ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট জর্ডান বারডেলা। মাত্র সাত মাস আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন গাব্রিয়েল আতাল। তিনি দলের পরাজয়ে ঘোষণা দিয়েছেন যে, আজ সোমবার সকালে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। শেষ দিকে রাজনৈতিক কৌশলে প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর তিনি দাবি করেছিলেন, ন্যাশনাল র‌্যালি যে আসন পাবে বলে বলা হয়েছে, তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি পাবে। ম্যাক্রন এবং বাম পন্থিদের জোট এনসেমবল থেকে ২১৭ জন প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেয়ার পর তিনি এমন ঘোষণা দেন। তবে তাদের কৌশল কাজে দিয়েছে। মেরি লা পেনের দলকে তৃতীয় অবস্থানে নামাতে পেরেছে। কিন্তু নিজেরা এক নম্বরে উঠতে পারেনি।

জর্ডান বারডেলার অভিযোগ, ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ক্ষুব্ধ মানুষকে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এভাবে লাখ লাখ ভোটারকে বঞ্চিত করার জন্য অসম্মানজনক জোটের নিন্দা জানান। তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতা হাতে চাই না। আমরা ক্ষমতা জনগণের হাতে তুলে দিতে চাই। বামপন্থিদের জোটের বিজয়ের জন্য ম্যাক্রনের জোটকে দায়ী করেছেন দলটিতে বারডেলার সহকর্মী সেবাস্তিয়েন ছেনু।

তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সকে এক গোলকধাঁধায় ফেলেছেন। ফ্রান্স এখন ঝুলন্ত পার্লামেন্টের দিকে যাচ্ছে এটা নিশ্চিত। এর অর্থ হলো দেশটি অনিশ্চিত এক অবস্থায় পতিত হবে। কারণ, বামপন্থি জোটের নেতৃত্বে আছেন আরেক উগ্রপন্থি জ্যাঁ-লুক মেলেঞ্চন।