বারবার আঘাত হানতে পারে কালবৈশাখী

বারবার আঘাত হানতে পারে কালবৈশাখী

বৈরী আবহাওয়া প্রচন্ড দাপট দেখাবে সামনের দিনগুলোয়। অন্য বছরের তুলনায় এবার কালবৈশাখীও বেশি আঘাত হানবে। এপ্রিল থেকে মে মাস পর্যন্ত ছয়টি নিম্নচাপ, যার মধ্যে দুটি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। একই সময় সমান্তরাল ধারায় শিলাবৃষ্টি, কালবৈশাখী ও বজ্রঝড় আঘাত হানতে পারে। জুন মাসে বর্ষা বিস্তার লাভ করলেও সামনের দিনগুলোয় দেশের কোথাও না কোথাও বৃষ্টির দেখা মিলবেই। আবহাওয়াবিদরা এমনই আভাস দিয়েছেন।

আবহাওয়ার এমন বৈরিতা সম্পর্কে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. মিহির কান্তি মজুমদার বলেন, দুঃখজনক হলো এটাই যে, আমরা জীবন নিয়ে খেলছি। আজ বৈশ্বিক উষ্ণতার শিকার বাংলাদেশের মানুষ। এর পরিণতি ভয়াবহ। জনস্বার্থের পরিপন্থী ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা শ্রেণিগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকা-ের ছদ্মাবরণে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা ধ্বংস করছে। এসব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে না পারলে এমন সময় আসছে যে, আর শোধরানোর পথ থাকবে না।

সোমবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকায় ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বৃষ্টি পরিমাপক কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বিকাল পর্যন্ত সীতাকুন্ডে সর্বোচ্চ ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘলা ছিল, সকালে হালকা বৃষ্টির সঙ্গে একদফা ঝড় বয়ে যায়। দুপুরেও ভিজিয়েছে বৃষ্টি। এর পর ফের বিকালে মূষলধারায় বৃষ্টি ঝরে রাজধানীতে। ছিল ঝড়ের তাণ্ডবও।। নগরীর অনেক স্থানে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার।

আবহাওয়ার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাগরে লঘুচাপ চলছে। লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আর মৌসুমি লঘুচাপ অবস্থান করছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগ থাকবে দুর্যোগপূর্ণ। এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেন, এখন কালবৈশাখীর মৌসুম। তাই থেকে থেকে ঝড়বৃষ্টি হবেই। তবে বৈশাখের পর প্রকৃতির বৈরিতা কিছুটা কমতে পারে। কারণ তখন তাপমাত্রা বেড়ে যাবে। এবার কালবৈশাখী অন্য সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি হচ্ছে এবং হবে জানিয়ে এ আবহাওয়াবিদ বলেন, সব বছর তো অবস্থা এক রকম হয় না। গতকাল শুধু ঢাকায় নয়, দেশের অন্য অঞ্চলেও কালবৈশাখী আঘাত হেনেছে ও বৃষ্টি হয়েছে বলে জানান আবহাওয়াবিদরা।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়- পাবনা, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা এবং নোয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌহুশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের অন্য অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এমআই