বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারিত্ব সংলাপ অনুষ্ঠিত

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ধারা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

বাংলাদেশের বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সোমবার ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সপ্তম অংশীদারত্ব সংলাপ শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ডেভিড হেইলের যৌথ সভাপতিত্বে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

সংলাপে ডিজিটাল আইন ছাড়াও মানবাধিকার, সুশাসন, রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো উঠে এসেছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দশ লাখেরও বেশী রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশের আশ্রয় দেয়ার বিষয়টি উদারতা পরিচয় বহন করে। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে প্রশংসা করে। ২০১৭ সালের আগস্টে সংকট শুরু হবার পর থেকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ৪৯৪ মিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা প্রদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানায় বাংলাদেশ।

এতে বলা হয়, "রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের জন্য এর মূল উৎসে যাওয়ার পাশাপাশি স্বেচ্ছা, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়ার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি যে মিয়ানমারের জন্য জরুরি, সে বিষয়ের উপর গুরুত্বারোপ করেছে দুই দেশ। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাড়তি তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সংগঠিত করার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রোহিঙ্গা ও কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং সংকটের সমাধানে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ তৈরিতে দুই দেশ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ অব্যাহত রাখতে একমত হয়েছে।"

অংশীদারিত্ব সংলাপে দুই দেশের প্রতিনিধিরা মত প্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, "বাংলাদেশ আইনের শাসন সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। মানবাধিকার এবং দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ নিয়ে শেখ হাসিনার ঘোষণার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছে। মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং মানব পাচার রোধের প্রয়াস দ্বিগুণ করতে বাংলাদেশকে আহবান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।"

নিরাপত্তা ইস্যু প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, "দুই দেশের প্রতিনিধিরাই আগাম নিরাপত্তা ইস্যুতে সন্ত্রাসবাদের চ্যালেঞ্জ এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার বাধ্যবাধকতার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন।"

এতে বলা হয়, "দুই দেশের মধ্যে যে সব বিশেষায়িত সামরিক তথ্য বিনিময় হয়েছে, তার সুরক্ষার জন্য আলোচনা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশ এ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।সাইবার নিরাপত্তা উদ্দেশ্য নিয়ে কথা হয়েছে। আর এ বিষয়ে সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ।সমুদ্রসীমায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা এবং বঙ্গোপসাগরে আঞ্চলিক নিরপত্তা এবং সহযোগিতা প্রদানে বাংলাদেশকে তার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।"

উন্নয়ন সহযোগিতা প্রসঙ্গে বিবৃতিতে বলা হয়, "বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য প্রসারে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।"

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মান ও চর্চার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শ্রম অধিকার ও কর্ম পরিবেশের নিরাপত্তায় অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ ছাড়া একটি অবাধ, উন্মুক্ত, অংশগ্রহণমূলক, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন স্বপ্ন এগিয়ে নিতে দুই দেশ নিবিড় সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

জিএস/