আদালতে মুরসির ইন্তেকাল: বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া

আদালতে মুরসির ইন্তেকাল: বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া

'আরব বসন্তে'র উত্তাল ঢেউ বিভিন্ন দেশের মতো আঁছড়ে পড়েছিলো মিসরেও। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার মসনদ আঁকড়ে রেখেছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসনি মোবারক। কিন্তু ২০১১ সালে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আর গদি রক্ষা করতে পারেননি সেই স্বৈরঃশাসক। এরপর ২০১২ সালে মিসরে প্রথমবারের মতো নির্বাচন হয়। আর তাতে জনতার ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মোহাম্মদ মুরসি। গণতন্ত্রের পথে নতুন এক ইতিহাসের সূচনা করেন তিনি।

সোমবার কায়রোর একটি আদালতে বিচার চলাকালীন অবস্থায় হঠাৎ করেই ইন্তেকাল করেন দেশটির ইতিহাসের প্রথমবারের গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট মুরসি। কারাগারে দুঃসহ নির্যাতন, অনিয়ম আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের নানান অভিযোগে মুরসির এই ইন্তিকালে শোকাহত পুরো বিশ্ব। প্রথম গণতান্ত্রিক এই প্রেসিডেন্ট এর জন্য সমবেদনা আর শোক জানাতে এক কাতারে এসে সামিল হয়েছেন সবাই। জাতিসংঘ, মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ তাদের বিবৃতি এবং বক্তব্যে মুরসির ইন্তিকালে শোক এবং গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

একিসঙ্গে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট কারাগারে আটক থাকা অবস্থায় দেশটির সেনা নিয়ন্ত্রিত সরকার কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা এবং তদন্তের আহবান জানানো হয়েছে। প্রশ্নবিদ্ধ অভিযোগ আর মামলায় কায়রোর এক আদালতে বিচার চলাকালীন অবস্থায় সোমবার রাতে ইন্তিকাল করেন মিসরের বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ।

২০১৩ সালে রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই কারাগারই ছিল তার ঠিকানা। এ সময়ে মাঝে মধ্যেই আদালতে তোলা হতো তাকে। 

মিসরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, ‘বিচার চলাকালে আদালতের এজলাসে হঠাৎ পড়ে গিয়ে’ তার মৃত্যু হয়েছে।

মুরসির ইন্তেকালে শোক প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডোজাররিক এক শোক বার্তায় সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরিসর পরিবার এবং সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

আদালতে মুরসির ইন্তেকালের ঘটনাকে "ভয়ংকর" বলে মন্তব্য করেছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার নির্বাহী পরিচালক সারাহ লীহ হুইটসন বলেন, "মুরসির ইন্তেকালের এ ঘটনা ভয়ংকর। এবং এমনকিছু ঘটবে এটা পূর্বেই বুঝা গিয়েছিলো। কারণ সরকার থাকে যথাযথ চিকিৎসার সুযোগ দেয়নি।"

মুরসির ইন্তেকালের বিষয়টি তদন্ত করার আহবান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

সংস্থাটি এক টুইট বার্তায় জানিয়েছে, "মুরসির ইন্তেকালের বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ এবং পক্ষপাতহীন তদন্ত করতে মিসর কর্তৃপক্ষকে আহবান জানাচ্ছি। তাঁকে কেন একা আটক রাখা হয়েছিলো এবং বর্হিঃবিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিলো তাও তদন্ত করা হোক।"

সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে কী রকমের চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছিলো তা তদন্ত করতে, একিসঙ্গে কেউ যদি এ বিষয়ে অনিয়ম করে থাকে তাকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসারও আহবান জানিয়েছে সংস্থাটি।

কাতারের আমীর শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানী শোকবার্তায় বলেন, "সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির হঠাৎ করে ইন্তিকাল করার বেদনাদায়ক খবরটি আমরা জেনেছি। আমার পক্ষে থেকে তাঁর পরিবার এবং মিসরবাসীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।"

মুরসিকে "শহীদ" আখ্যায়িত করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোগান বলেছেন, "আল্লাহ আমাদের শহীদ মুরসি ভাইয়ের আত্মাকে শান্তিতে রাখুন।"

মুরসির ইন্তেকালের বিষয়ে তাঁর পুত্র আহমেদ বলেন, "আল্লাহর সামনে বাবা এবং আমরা একত্রিত হবো।"

লন্ডনে অবস্থানকারী মুসলিম ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ সুদান বলেন, "উদ্দেশ্যমূলকভাবেই মুরসিকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। সাবেক এই প্রেসিডেন্ট চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তাকে কোথাও বের হবার সুযোগ দেয়া হয়নি। আর তাঁর স্বাস্থ্য সম্পর্কে কাউকে তেমনভাবে কোনোকিছু জানানো হতোনা।"

জিএস/