প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাড়তি খরচ সোয়া তিন হাজার কোটি টাকা!

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাড়তি খরচ সোয়া তিন হাজার কোটি টাকা!

২০১৭-১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর জাতীয় সংসদে সাধারণ আলোচনা শুরু হবে রোববার থেকে। আলোচনা শেষে কাল অথবা পরশু সম্পূরক বাজেট পাস করা হতে পারে। এবার সংশোধিত বাজেটে মূল বাজেটের আকার, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) ও রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বরাদ্দ বেড়েছে ৩ হাজার ২শ’ ৭৭ কোটি টাকা।

গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের মূল বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। এটা ছিল জিডিপি’র ১৮ শতাংশ। সংশোধিত বাজেটে এর আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। এটা জিডিপি’র ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ মূল বাজেটের আকার কমেছে ২৮ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা।

চলতি মূল বাজেটে মোট রাজস্ব প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা, এনবিআর বহির্ভূত কর-রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা এবং কর-বহির্র্ভূত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা।

সংশোধিত বাজেটে প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা কাটছাঁট করা হয়েছে। মোট রাজস্ব প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর আওতাধীন রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া এনবিআর বহির্ভূত কর-রাজস্ব আয়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ২০২ কোটি টাকা এবং কর-বহির্র্ভূত রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২৭ হাজার ২৫২ কোটি টাকা।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরীবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ ছাড়া আর কোথাও বরাদ্দ বাড়েনি। প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় চলতি বাজেটের বরাদ্দের চেয়ে কম হয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৪শ’ ৫৬ কোটি টাকা। যার মধ্যে পরিচালন ব্যয় ছিল ৪৮৬ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন বরাদ্দ ছিল ৯৭০ কোটি টাকা। উভয়খাতেই খরচ বেশি হয়ে তা দাড়িয়েছে ৪ হাজার ৭শ’ ৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ৫৮৫ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ৪ হাজার ২শ’ ১৮ কোটি টাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মোট বরাদ্দ ছিল ১১শ’ ৮৯ কেটি টাকা। সেখানে বেড়ে দাড়িয়েছে ১২শ’ ১৮ কোটি টাকা। এ মন্ত্রণালয়ে উন্নয়ন ব্যয় বেড়েছে ৯৫ কোটি টাকা। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরীবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের ১শ’ কোটি টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ১২কোটি টাকা বেড়ে দাড়িয়েছে ১১২ কোটি টাকা।

এমজে/