পাবনায় গণপূর্ত ভবনে মহড়া

সেই আ'লীগ-যুবলীগ নেতাদের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল

সেই আ'লীগ-যুবলীগ নেতাদের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল

পাবনার গণপূর্ত ভবনে সম্প্রতি অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সেই দুই নেতার দুটি শটগানের লাইসেন্স বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার দুই অস্ত্রের মালিককে জেলা পুলিশের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ওই তিন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান এবং বহিষ্কারের সুপারিশ করে কেন্দ্রে চিঠি দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় পাবনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কবীর মাহমুদ দুই নেতার অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গণপূর্ত ভবনে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া লাইসেন্সধারী দুই ব্যক্তি অস্ত্র আইনের শর্ত ভঙ্গ করেছেন। জেলা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনে অস্ত্র দুটির লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এ প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই লাইসেন্স দুটি বাতিল করা হয়েছে।

অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া ওই দুই আওয়ামী লীগ নেতা হলেন- পাবনার পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমআর খান ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালু।

এর আগে ১৩ জুন রাতে পুলিশের নির্দেশে তারা লাইসেন্স করা শটগান দুটি থানায় জমা দেন।

এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান বলেন, গণপূর্ত ভবনে মহড়া দেওয়া ব্যক্তিরা বৈধ অস্ত্র ব্যবহারের শর্ত অমান্য করেছেন। এ ঘটনায় গণপূর্ত বিভাগ কোনো অভিযোগ না দিলেও জেলা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে। তদন্তে বৈধ অস্ত্রের শর্ত ভঙ্গ করার প্রমাণ পাওয়া যায় এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে লাইসেন্স দুটি বাতিলের সুপারিশ করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৬ জুন দুপুরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ফারুক হোসেন লোকজন নিয়ে গণপূর্ত বিভাগের পাবনা কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। তার পেছনে শটগান হাতে মহড়া দেন পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমআর খান ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালু।

পরবর্তীতে ভবনে থাকা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার একটি ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনার ঝড় ওঠে। কিছু ঠিকাদার অভিযোগ করেন, ঠিকাদারি কাজের সুবিধা পেতেই আওয়ামী লীগ নেতারা এ মহড়া দেন।

এদিকে গণপূর্ত অফিসে অস্ত্র হাতে মহড়া দেয়ার অভিযোগে ওই তিন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান এবং বহিষ্কারের সুপারিশ করে কেন্দ্রে চিঠি দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হোসেন এবং এমআর খানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান ও বহিষ্কারের সুপারিশ করে কেন্দ্রে এ চিঠি পাঠান।

অন্যদিকে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালুকে কারণ দর্শানোসহ তাকে বহিষ্কারের সুপারিশ করে কেন্দ্রে চিঠি দিয়েছেন জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনি। জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল রহিম লাল বৃহস্পতিবার বিকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।