এএফপি'র রিপোর্ট

নির্বাচনের আগে বিরোধী নেতাকর্মীদের সাজা হচ্ছে বাংলাদেশে

নির্বাচনের আগে বিরোধী নেতাকর্মীদের সাজা হচ্ছে বাংলাদেশে

বাংলাদেশের আদালত প্রধান বিরোধী দল বিএনপির অন্তত ৯৮ জন কর্মকর্তা ও এক্টিভিস্টকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। এর ফলে গত মাস থেকে এ পর্যন্ত সাজা পাওয়া ব্যক্তির সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। বিএনপি বলেছে, দেশের একমাত্র বিরোধী দলকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে এ মামলাগুলো দেয়া হচ্ছে এবং এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বাংলাদেশে আগামী ৭ই জানুয়ারি একটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা চতুর্থ দফা ক্ষমতায় আসতে চান শেখ হাসিনা। নির্বাচনের আগে সহিংসতার অভিযোগে অনেক বিরোধী নেতাকর্মীদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তারা আড়াই থেকে সাত বছর পর্যন্ত সাজা পেয়েছেন। 

মনির উজ জামান নামের একজন প্রসিকিউটর বলেন, ২০১৩ সালে রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বিএনপির ৭৫ কর্মীকে ঢাকার একটি আদালতে আড়াই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। জামান বলেন, ৭৫ জনের মধ্যে ৭২ জনই ‘পলাতক’ এবং এখন তারা ‘ওয়ান্টেড’ তালিকাভুক্ত। 

তাপস কুমার পাল নামের অন্য একজন প্রসিকিউটর এএফপিকে বলেন, ঢাকার আরেকটি আদালত ২০১৫ সালের এক সহিংসতার দায়ে ১২ বিএনপি কর্মীকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সংঘর্ষের সময় সহিংসতার দায়ে বুধবার বিএনপির আরও ১১ সদস্যকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এই দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অনুপস্থিত ছিলেন। নজরুল ইসলাম বলেন, তাড়াহুড়ো করে মামলাগুলোর রায় দেয়া হয়। বিএনপির আইনজীবী কায়সার কামাল অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিএনপির অন্তত ৪০০ সিনিয়র কর্মকর্তা ও এক্টিভিস্টকে সাজা দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য, যুব ও ছাত্রনেতা এবং যারা আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যাশী ছিলেন তারাও আছেন। তিনি এএফপিকে বলেন, এই মামলাগুলো মঞ্চস্থ, ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে হঠাৎ করেই এসব মামলার বিচার শুরু হয়।

শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়তে এবং একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি কয়েকটি বড় সমাবেশ ও মিছিল করেছে। কিন্তু গত মাসের শেষ দিক থেকে পুলিশ বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো শুরু করেছে। এতে বিএনপির প্রায় পুরো শীর্ষ নেতৃত্বকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকও গ্রেপ্তার হয়েছে। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ব্যাপক আকারে বড় হয়েছে। কিন্তু তার ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসন এবং হাজার হাজার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগেরও জন্ম হয়েছে।