সেনাপ্রধানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সবার জন্য বার্তা: টিআইবি

সেনাপ্রধানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সবার জন্য বার্তা: টিআইবি

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা সবার জন্য বার্তা। এ ঘটনা জাতিসংঘে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে বিব্রত করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যে অপরাধের কথা বলেছে, সেটি উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া বলার কথা নয়। আর এ অপরাধের সঙ্গে সাবেক এ সেনাপ্রধান একা দায়ী নন। এর সঙ্গে অনেক সহযোগী রয়েছেন। তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। এক্ষেত্রে দেশীয় সংস্থাগুলোকে (দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক) সক্রিয় হতে হবে। 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মঙ্গলবার এসব কথা বলেন। 

ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, র‌্যাবের ওপর তাদের (যুক্তরাষ্ট্রের) স্যাংশন দেওয়ার পর উচ্চপর্যায়ের টিম বাংলাদেশ ভিজিট করেছে। সেই সময় প্রতিটি ক্ষেত্রেই গণমাধ্যমকে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা বলেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি দুর্নীতি রোধে নিষেধাজ্ঞাকে হাতিয়ার হিসাবে বিবেচনা করা হবে। এর ধারাবাহিকতায় সাবেক সেনাপ্রধানের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে। 

তিনি বলেন, তার (জেনারেল অব. আজিজ) বিষয়টিকে নিয়ে আলজাজিরায় একটি প্রতিবেদন হয়েছিল। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব সূত্র থেকেও তথ্য সংগ্রহ করে। তবে যে কোনো সূত্রে তথ্য সংগ্রহ করা হোক না কেন, ঘোষণা অনুসারে তারা আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো ‘ব্যক্তির পরিচয় এবং অবস্থান যাই থাকুক, দুর্নীতির প্রমাণসাপেক্ষে কোনো রাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক সংস্থা যদি কারও বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়, সেক্ষেত্রে আমাদের দেশে সংশ্লিষ্ট সংস্থার (দুর্নীতি দমন কমিশন) দায়িত্ব দেশীয় আইন অনুসারে সেগুলো খতিয়ে দেখা। তবে আমি মনে করি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। 

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশে রাষ্ট্রীয়, সরকারি, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দলে ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের অনেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি করেন। এটি সবাই জানে। সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের আরও অনেক ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। ফলে আমরা মনে করি, এটি সবার জন্য বার্তা। অর্থাৎ দুর্নীতি করলে জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবেও বিব্রত হওয়ার আশঙ্কা আছে। যে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্র এ পদক্ষেপ নিয়েছে, তারা পুরোপুরি যাচাই না করে এ ধরনের সদ্ধিান্ত নেবে, তা চিন্তা করা কঠিন। তবে এটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে এ মুহূর্তে কোনো প্রভাব ফেলবে, সেটি আমি বলছি না। কিন্তু এটি একটি বিব্রতকর অবস্থা তৈরি হবে বা হয়েছে। 

তিনি বলেন, এছাড়া তার (সেনাপ্রধান) বিরুদ্ধে যেসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তাতে এককভাবে তিনি এ অপরাধ করেছেন, সেটি নয়। এখানে আরও অনেক সহযোগী বা যোগসাজশকারী ছিলেন। ওই সহযোগীদের নাম এ তালিকায় নেই। ফলে দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উচিত সেসব সহযোগীকে জবাবদিহির আওতায় আনা।