সিটি নির্বাচনে ৫ থেকে ৭ ভাগ ভোট পড়েছে: বিএনপি মহাসচিব

সিটি নির্বাচনে ৫ থেকে ৭ ভাগ ভোট পড়েছে:  বিএনপি মহাসচিব

ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মিডিয়ার কারচুপির মাধ্যমে ভোটের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। এই নির্বাচনে ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।

সোমবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকার নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি একথা বলেন।

সিইসি জানিয়েছেন এ নির্বাচনে ৩০ শতাংশের কম ভোট পড়েছে তার এ বক্তব্যের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, মিডিয়া এ বিষয়ে অনেক রিপোর্ট করেছে। আমার কাছে সেগুলো আছে। এখানে ৫/৬ অথবা ৭ শতাংশ ভোট পড়তে পারে। ফলাফল তৈরির জন্য তারা একটা অঙ্ক বা অনুপাত মিলিয়েছেন। যেটা তারা প্রকাশ করেছে।

অর্থাৎ পুরোপুরি একটা মিডিয়া কারচুপির মাধ্যমে এ ফলাফল প্রকাশ করেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইভিএম সিস্টেমের ওপর জনগণের আস্থা চলে গেছে। আওয়ামী লীগ ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে পরিচালিত কোনো নির্বাচনেই জনগণের কোনো আস্থা নেই। এ কারণেই ভোটের হার এতো কমেছে।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে বিএনপি আর কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা এমন প্রশ্নে মহাসচিব বলেন, আমরা নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তনে বিশ্বাসী। এবং সে জন্যই আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। ভবিষ্যতে অবস্থার উপর আমরা সিদ্ধান্ত নেব আমরা কি করবো।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, একটা নতুন কৌশল উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে তারা আবারো ঢাকা সিটি নির্বাচনকে পুরোপুরিভাবে ইচ্ছে মতো তাদের ফলাফল প্রকাশ করল। সাড়ে ৭ টা, ৮ টার কিছুটা সময় ফলাফল প্রকাশ করা বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো।

আমাদের মনে হয়েছে, এক ধরণের মিডিয়া ক্যু সেটা বোধহয় সংঘটিত হয়েছে। আমরা ঠিক জানি না, প্রাথমিকভাবে যে ফলাফলগুলো কেন্দ্রে থেকে হয়েছে এরপর থেকেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

তিনি আরো বলেন, সাধারণত নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে ভোটগ্রহণ করা, কোন পদ্ধতিতে তারা ভোট গ্রহণ করবেন সেটা নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী সকালবেলায় নৌকায় ভোট দিয়ে তিনি সকলকে নৌকায় ভোট দিতে বলেন। তেমনই নির্বাচন কমিশন কোন পদ্ধতিতে ভোট নেবে না নেবে সেটাও তিনি নির্দেশ করে দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া দেশের কিছুই নড়ে না। সুতরাং নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বগুলো তাকেই করতে হয়।

এরআগে বিএনপির ডাকা হরতাল সফল করতে দুপুরে নয়াপল্টনে বিক্ষোভ করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। সেখানে অংশ নেন বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থী। এসময় তাবিথ আউয়াল বলেন, ন্যূনতম সুষ্ঠু ভোট হয়নি। এ রকম নির্বাচন আমরা কখনই প্রত্যাশা করিনি। আমরা এই ভোটচুরির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করছি।

বিএনপির ডাকা হরতালের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, হরতালের দাবি জনগণের কাছ থেকে এসেছে। আমরাও জনগণের পক্ষে আছি। হরতালকে কেন্দ্র করে দৃশ্যমান কিছু আমরা দেখছি না। দুই সিটিতেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবাই এ হরতাল পালন করছে।

এসময় ইশরাক বলেন, নির্বাচনে ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘ সময় প্রমাণ করে এ নির্বাচন কারচুপির। নির্বাচনের ফলাফলের যে পরিমাণ ভোট কাস্ট দেখানো হয়েছে তার চাইতে অনেক কম ভোট কাস্ট হয়েছে। আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগ সমর্থকরা সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে দেননি। যে ফলাফল ঘোষণা হয়েছে সেটি ইসির সম্পূর্ণ মনগড়া একটি সাজানো ফলাফল। এ ফলাফলের মাধ্যমে জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি। আমরা এ ফলাফল প্রত্যাখ্যান করছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খারুলল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরীসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।