সালাম তালুকদারের অবদান দেশবাসী চিরদিন স্মরণ করবে: মির্জা আলমগীর

সালাম তালুকদারের অবদান দেশবাসী চিরদিন স্মরণ করবে: মির্জা আলমগীর

বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব, সাবেক মন্ত্রী ও বরেণ্য রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের অবদান দল ও দেশবাসী চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার আব্দুস সালাম তালুকদারের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‌‌বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আমি তার আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। জনগণের নাগরিক অধিকার তথা বাক, ব্যক্তি, চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করার সংগ্রামে ব্যারিস্টার সালাম তালুকদারের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। ছাত্রজীবন থেকে প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হয়ে রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা ও অবরুদ্ধ গণতন্ত্র পুনঃরুদ্ধারের সংগ্রামে তিনি সবসময় থেকেছেন গণআন্দোলনের সম্মুখ কাতারে।

তিনি বলেন, ৮০’র দশকে স্বৈরশাসনের অবসানের লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক আন্দোলন বেগবান করতে বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে লিয়াজোঁ কমিটির প্রধান হিসেবে তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সালাম তালুকদার ছিলেন স্পষ্টবাদী, ঋজু ও নানা বিরোধীতার মুখেও নিজ কর্তব্যে দৃঢ় একজন উচ্চ মার্গের রাজনৈতিক নেতা। তিনি এদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একজন মার্জিত ও সংস্কৃতবান রাজনীতিবিদ হিসেবে সমাদৃত ছিলেন। বিএনপি মহাসচিবের দায়িত্ব পালনকালে সালাম তালুকদার জাতীয়তাবাদী দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করেছেন। দুই মেয়াদে মন্ত্রী হিসেবেও তিনি দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‌সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শনকে প্রতিষ্ঠিত করতে ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারের কবল থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণে ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের অবদান দল ও দেশবাসী চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শুভানুধ্যায়ী ও পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

প্রসঙ্গত: বিএনপির সাবেক মহাসচিব সালাম তালুকদার ১৯৩৬ সালের ৪ নভেম্বর জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার মুলবাড়ী গ্রামের তালুকদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কর্মজীবনে তিনি বিএনপির মহাসচিব ও সরকারের এলজিআরডি মন্ত্রী ছাড়াও প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। ৯০’র গণতান্ত্রিক আন্দোলনে রাজপথেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৯৯ সালের ২০ আগস্ট হার্টের বাইপাস সার্জারি করানোর জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার পথে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

এমজে/