সরকার ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের নামে নাটক করছে : নজরুল ইসলাম

সরকার ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের নামে নাটক করছে : নজরুল ইসলাম

বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের নামে নাটক করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র এখন মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের নামে নাটক করছে।

নজরুল ইসলাম বলেন, গতকালও ঢাকা এবং নওগাঁয় নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। ঢাকার আসনে ভোট পড়েছে ১০ শতাংশ। ঢাকা শহরে শতাংশ ভোট পড়বে এটা কি করে হয়? আমাদের কোনো এজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেয়নি। এমনকি নির্বাচনী প্রচারণায়ও তারা বাঁধা সৃষ্টি করেছে।

রবিবার সকালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, গণতন্ত্রের বাহন হলো নির্বাচন। নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র হয় না। কিন্তু নির্বাচনকে তারা এতোই পরিত্যক্ত, অগ্রহণযোগ্য ও হেয় করে ফেলেছে। আমাদের নির্বাচন কমিশন বলে আওয়ামী লীগ জিতলেই নির্বাচন সুষ্ঠ! নির্বাচনের পরিবেশ কেমন ছিলো, ভোটার গেলো কি গেলো না সেটি বিবেচ্য নয়। আজকে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটা হতে পারে শুধু নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে, যে সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে।

বাংলাদেশে করোনার মধ্যে ম্যানেজমেন্ট তা সুষ্ঠু হয়নি উল্লেখ করে বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, বাংলাদেশে করোনার মধ্যে যে ম্যানেজমেন্ট তা সুষ্ঠু হয়নি। দুর্নীতি অনাচারের কারণে নিম্ন মানের পিপিই, মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে। প্রায় শ’ খানেক ডাক্তার মারা গেছেন। এখনো প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালে মৃত্যুর তালিকা বাড়ছে। গবেষণায় বেরিয়েছে ঢাকা শহরের শতকরা ৪৫ ভাগ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, সারা দুনিয়ার মানুষ কোভিড-১৯ নামক মহামারিতে আক্রান্ত আর বাংলাদেশ কোভিডের পাশাপাশি দুর্নীতি, অনাচার, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং দলীয়করণ এ ধরনের আরো কয়েকটা মহামারিতে আক্রান্ত। এতো মহামারি থেকে আল্লাহ যেন দেশটাকে হেফাজত করেন সেজন্য দোয়া করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়ের জন্য। বৈষম্য দূর করার জন্য, শান্তি ও সমৃদ্ধিতে বাস করার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছরেও দেশে এসবকিছুই নেই।

সরকারের প্রবৃদ্ধি বাড়ার দাবির সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আজকে সরকার গর্ব করে যে দেশের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। কার প্রবৃদ্ধি? দেশের প্রবৃদ্ধি তো হলো একটা গড়। হাতে গোনা কিছু মানুষ বিপুল বৈভবের মালিক হচ্ছে। আর মানুষের বিরাট অংশ গরিব হচ্ছে। নতুন করে আরো এক কোটি ৬৪ লাখ মানুষ গরিব হয়েছে। বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে কিন্তু মানুষ কেমন আছে? সুখে আছে নাকি দুঃখে আছে? গবেষণা বলছে- এশিয়ার ৩০ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৬তম। এই প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ব্যক্তি বিশেষের। এটা জনগণের না। কারণ জনগণ শান্তি সুখে নেই।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কৃষিবিদ অধ্যাপক ড. আব্দুল করিম সরকার, রাশিদুল হাসান হারুন, অধ্যাপক আসাদুল হক, একরামুল হক, আনিসুজ্জামান, সানোয়ার আলম, শামীমুর রহমান শামীম, নূরুন্নবী শ্যামল, এ আর মাহমুদ, অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন শ্যামল সহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী।

এমজে/