ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক করে দেশের ক্ষতি করেছে বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক করে দেশের ক্ষতি করেছে বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক করে বিএনপি বাংলাদেশের ক্ষতি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বৈরিতা আমরা করতে চাই না। বন্ধুত্বপূর্ণ, ভারসাম্যমূলক ও সম্মানজনক পারস্পরিক কূটনীতি চাই।’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রস্তুতি উপলক্ষে আয়োজিত যৌথ সভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শুরুর আগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রস্তুতি ও আয়োজন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১০ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে চাই। সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হলে আলোচনার টেবিলে সমস্যার সম্মানজনক সমাধান সম্ভব। ভারতের সঙ্গে কম্প্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ করছি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থেই। জাতীয় স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে কারও সঙ্গে সম্পর্ক করব না।’

জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বৈরী ছিল বলে উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, তারা পারস্পরিক সম্পর্কে সংশয় ও অবিশ্বাসের দেয়াল সৃষ্টি করেছিলেন। খালেদা জিয়া ভারতের সঙ্গে বৈরিতা করে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন।

ভারত দীর্ঘদিনের সীমান্ত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ভারত পার্লামেন্টে সর্বসম্মতভাবে সীমান্ত সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্যোগ নিয়েছেন।

সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, সিলেট অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। বহু মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়মিত বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ নিচ্ছেন। দলের নেতা-কর্মীদের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দুর্যোগ প্রতিমন্ত্রী বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করছেন। ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এর আগে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের মানুষের যা কিছু মহৎ অর্জন, তা এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে। আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতির অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় লড়ে গেছে। আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই সফলতার অনেক মুকুট যুক্ত হয়েছে। এই ৭৫ বছরে আওয়ামী লীগের পথচলা গৌরবোজ্জ্বল।

ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে রয়েছে আগামীকাল শুক্রবার বেলা তিনটায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর পর্যন্ত শোভাযাত্রা, ২৩ জুন সকাল সাতটায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল সাড়ে ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও বেলা আড়াইটায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ, ২২ জুন রবীন্দ্রসরোবর ও ২৪ জুন হাতিরঝিলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যানার, পোস্টার, ক্রোড়পত্র, ভিডিও প্রকাশ করা হবে। সারা দেশে সবুজ ধরিত্রী নামে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে।

যৌথ সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও দীপু মনি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, দলের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ। সভায় দলের ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ও সব সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকেরা অংশ নেন।