হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন

‘ভেনেজুয়েলার তেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, সংকট সমাধানে সব ব্যবস্থা উন্মুক্ত’

‘ভেনেজুয়েলার তেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, সংকট সমাধানে সব ব্যবস্থা উন্মুক্ত’

হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা

ভেনেজুয়েলার তেল কোম্পানির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একিসঙ্গে বিরোধী নেতা জুয়ান গুইদোসহ যুক্তরাষ্ট্র নাগরিকদের সুরক্ষার প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপের কথাও বলা হয়েছে।

সোমবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি (অর্থমন্ত্রী) স্টিভেন মনোচিন। হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি সারাহ সেন্ডার্স ৪১ দিন পর দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে নিয়ে ব্রিফিং রুমে হাজির হন। শার্টডাউনের কারণে হোয়াইট হাউসের নিয়মিত ব্রিফিং বন্ধ ছিলো।

সংকট নিরসনে আলোচনার দরজা উন্মুক্ত জানিয়ে বোল্টন বলেন, "প্রেসিডেন্ট খুব স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন যে-আলোচনার জন্য সব ধরনের সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে।"

দিনের পর দিন ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। দেশটির বিরোধী নেতা জুয়ান গুইদো গত সপ্তাহে নিজেকে সাংবিধানিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। আর তার এ ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতৃত্বাধীন প্রশাসন।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মনোচিন ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ’র বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের উপর চাপ আরো বাড়লো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে জন বোল্টন বলেন, "শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক এবং শান্তিপূর্ণ পন্থায় ক্ষমতার পালা-বদলকে মেনে নিতে আমরা ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। নিশ্চিতভাবে বলতে গেলে এ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। দেশটির কর্মকর্তা এবং সেনাবাহিনী বিষয়টির দিকে সতর্ক মনযোগ দিয়েছেন। আমরা ক'দিন আগেই জুয়ান গুইদোকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছি।"

তিনি আরো বলেন, "অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট জুয়ান গুইদোকে স্বীকৃতি দিতে অনান্য দেশের প্রতি আমরা আহবান জানাচ্ছি। মাদুরো স্পষ্টতো জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি নতুন নির্বাচন আয়োজন করবেন না এবং গুইদোকে স্বীকৃতি দিবেন না। গণতন্ত্রের এবং সমৃদ্ধির জন্য ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়ানোর এখনই সময়।"

জন বোল্টন বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিক, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি এবং প্রেসিডেন্ট জুয়ান গুইদোর নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি হলে ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনীকে এর জন্য দায়ী থাকতে হবে। এসব ক্ষেত্রে কোনো সহিংসতার ঘটনা ঘটলে তা চরম অবমাননা হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে এবং এর সমুচিত জবাব দেয়া হবে।"

নতুন এ নিষেধাজ্ঞার ফলে ৭ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে ভেনেজুয়েলা। আগামী বছর এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১১ বিলিয়ন ডলারে।

নিষেধাজ্ঞা অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান স্টিভেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কোম্পানি আরা ভেনেজুয়েলার তেল কিনতে পারবেনা। আর এ নিষেধাজ্ঞা শুধু বৈধ ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের ক্ষেত্রে প্রত্যাহার করা হবে।

স্টিভেন মনোচিন বলেন, "ভেনেজুয়েলার এই করুণ দশার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সবাইকে জবাব দিহিতার আওতায় আনা হবে। দেশটির জনগণ এবং বৈধ প্রেসিডেন্ট জুয়ান গুইদো এর সমর্থনে সব ধরনের কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।"

সংবাদ সম্মেলনে সারাহ সেন্ডার্স বলেন, এ সপ্তাহে চীনের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করা হবে।

 

জিএস/