মানবাধিকার রিপোর্ট প্রকাশ উপলক্ষে স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিশেষ ব্রিফিং

‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সমস্যা প্রকট, কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই আমলে নিতে হবে’

‘বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সমস্যা প্রকট, কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই আমলে নিতে হবে’

স্টেট ডিপার্টমেন্ট করসপন্ডেন্ট

বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের সমস্যা প্রকট। আর এ কারণেই দেশটির অগ্রযাত্রা হুমকির মুখে- এমন মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম বিষয়ক প্রধান অ্যাম্বাসেডর মাইকেল জি কোজাক।

বার্ষিক মানবাধিকার রিপোর্ট ২০১৮ প্রকাশ উপলক্ষে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফরেন প্রেস সেন্টারে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংএ বাংলাদেশী সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারীর করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রিপোর্টের চিত্র তোলে ধরে মুশফিকুল বলেন, “আপনাদের রিপোর্টে বাংলাদেশের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে-নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হয়নি। তাতে ব্যাপক জালিয়াতি, আগেই ব্যালট বাক্স ভর্তি, বিরোধী দলের প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকের উপর ধর-পাকড় চালানো হয়েছে। আপনাদের রিপোর্টে এটাও উল্লেখ আছে যে-বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া জেলে আটক রয়েছেন। এটা করা হয়েছে তাঁকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার নীল নকশা হিসেবে। দেশের এই অবস্থা থেকে গণতান্ত্রিক পথে উত্তরণের জন্য আপনার অভিমত কী? আর এ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানাবেন কী?”

জবাবে কোজাক বলেন, “আপনার প্রশ্নটা খুব ভালো কিন্তু বিষয়টা খুবি জটিল। এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের চমৎকার এবং গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। একই সময়ে যেটা দেখা যাচ্ছে তা হলো দেশটির গণতন্ত্র এবং মানবাধিকার পরিস্থিতি ক্রমেই নিম্নমুখী এবং জটিল পন্থায় এগুচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে আমার আলোচনা হয়েছে। অধিকাংশ পর্যবেক্ষককে যথাসময়ে দায়িত্বপালনের জন্য ভিসা দেয়নি বাংলাদেশ সরকার। আমরা আপ্রাণ যেটা বুঝাতে, বলতে চেয়েছি তা হলো- দেখুন, যারা নির্বাচনের বিষয়টি ভালো বুঝে তাদের কেন যেতে দিলেন না? তারা যদি সেখানে যাবার সুযোগ পেতো তাহলে বলে দিতে পারতো কোথায় ভুল হচ্ছে, ভুল করার আগে সেটা সংশোধন করা যেতো। তাহলে এখন যে পরিস্থিতি হয়েছে, সে পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া লাগতো না।”

তিনি আরো বলেন, “যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছিলো তার সবগুলোই আমাদের রিপোর্টে এসেছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তিতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আমরা যেটা বলতে পারি সেটা হলো- সবগুলো বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলেছি। দেশকে যদি সঠিক রাস্তায় নিয়ে যেতে হয় তাহলে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে এবিষয়গুলোকে অবশ্যই আমলে নিতে হবে। যেটা দুর্ভাগ্যজনক সেটা হলো এই অনিয়মগুলোকে একের পর এক বাড়ানো হয়েছে। আমরা (যুক্তরাষ্ট্র) এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রেখেছি-এটাই ভালো কিছুর ইঙ্গিত।”

ব্রিফিংটি সঞ্চলনা করেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফরেন প্রেস সেন্টারের পরিচালক বেজ্ঞামিন ওয়েবার।

জিএস/