যুক্তরাষ্ট্রের মানব পাচার বিষয়ক প্রতিবেদন

বাংলাদেশে মানব পাচার পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত

বাংলাদেশে মানব পাচার পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত

বাংলাদেশে মানব পাচার পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। বিগত এক বছরে পূর্বে মানব পাচারে বাংলাদেশের যে অবস্থান ছিলো এখনো সেই অবস্থানে রয়েছে দেশটি।  মানব পাচার বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নূন্যতম মান পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ সালের ট্রাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি) রিপোর্টে বাংলাদেশের মানব পাচার পরিস্থিতির মূল্যায়ন অংশে এ মন্তব্য করা হয়েছে।

টিআইপি রিপোর্টে বাংলাদেশ গত বছরের মতো এবারও টিয়ার-২ বা দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছে। টিআইপিকে মোটা দাগে ৩টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে: টিয়ার-১, টিয়ার-২, টিয়ার-২ ওয়াচ লিস্ট এবং টিয়ার-৩। মানব পাচার মোকাবিলায় টিয়ার-১ সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে, আর টিয়ার-৩ সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার মানব পাচার বন্ধে নূন্যতম মান পূরণে সম্পূর্ণ সফল হয়নি তবে উল্লেখযোগ্য কিছু অগ্রগতি দেখিয়েছে। সামগ্রিকভাবে বিগত বছরের তুলনায় মানব পাচার রোধে পদক্ষেপ গ্রহণে অধিকতর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় দেশটি টিয়ার-২ শ্রেণিতে রয়েছে। গৃহিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে মানব পাচারের তদন্ত, বিচার এবং পাচারকারীদের শাস্তির ব্যবস্থা।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, মানব পাচার রোধে সরকার আইনি ব্যবস্থা জোরদার করলেও নিজ দেশের অভ্যন্তরে যৌন পাচার, জোরপূর্বক শিশু শ্রম এবং মানব পাচারকে অভিবাসীদের চোরাচালান হিসেবে দেখানো- এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে পর্যাপ্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি।রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানব পাচার এবং হয়রানির ঘটনাগুলো তদন্তে যথাযথ তদন্ত এবং বিচার পদক্ষেপ গ্রহণ করেনা সরকার বলে রিপোর্টে মন্তব্য করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার নতুন কোন মানব পাচার প্রতিরোধ ট্রাইবুনাল প্রতিষ্ঠা করেনি। মানব পাচারের ভিকটিমদের সুরক্ষার জন্য গৃহিত পদক্ষেপগুলো এখনো অপর্যাপ্ত। মানব পাচার থেকে উদ্ধার হওয়া ভিকটিমদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং তাদের কষ্ট লাঘবে যতটা আন্তরিক হওয়া দরকার সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ঘাটতি রয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, মানব পাচারের শিকার ভিকটিমদের আশ্রয় কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবার জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে পুরুষদের জন্য ঢাকার বাইরে হাতে গোণা কয়েকটি আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে।

সরকারের বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিদেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে ফি নির্ধারণের বিষয়টি সরকার অব্যাহত রেখেছে। আর এ কারণে অনেক অভিবাসী শ্রমিককে ঋণগ্রস্থ হতে হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি মানব পাচারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

মানব পাচার রোধে বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থার সমালোচনা করে রিপোর্টে বলা হয়েছে, আদালতের অধিকাংশ রায়ে মানব পাচাকারীদের জেলের পরিবর্তে জরিমানা করা হয়, যেটি মানব পাচার নিরুৎসাহিত করার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দেয়। আর এর ফলে মানব পাচার রোধে সরকারের সামগ্রিক তৎপরতাকে খর্ব করে এবং ভিকটিমদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।