তাইওয়ানের নাগরিকদের বিচারে চীনের নতুন আইনের কঠোর নিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের

তাইওয়ানের নাগরিকদের বিচারে চীনের নতুন আইনের কঠোর নিন্দা যুক্তরাষ্ট্রের Photo: Mushfiqul Fazal Ansarey, Just News BD

মুশফিকুল ফজল আনসারী, স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট

তাইওয়ানের নাগরিকদের শাস্তি দেয়ার লক্ষ্যে চীনের জারিকৃত নতুন আইনের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে তাইওয়ানের নাগরিকদের বিরুদ্ধে  চীনের জারি করা নতুন বিচারিক নির্দেশনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষের সমর্থকদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রেখে চীন যে নির্দেশনা জারি করেছে তার সমালোচনা করে মিলার বলেন, আইনি যুদ্ধে জড়িয়ে সমাধান আসবেনা।

ব্রিফিংয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান, "তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে যারা সমর্থন করবে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে- শুক্রবার এরকম একটি নতুন আইনের নির্দেশনা জারি করেছে চীন। এদিকে, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এরকম আদেশ জারি করার অধিকার চীনের নেই। গণতন্ত্র কোনো অপরাধ নয়। এ বিষয়ে আপনাদের মন্তব্য কী?"

জবাবে মিলার বলেন, "আক্রমণাত্মক এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে- চীন কর্মকতার তরফে এরকম বক্তব্য এবং পদক্ষেপের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা অব্যাহতভাবে তাদের সংযত থাকতে বলছি। তাইওয়ানের স্থিতাবস্থায় একতরফা কোনো পরিবর্তন করা যাবেনা। হুমকির প্রেক্ষাপটে তাইওয়ানের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনায় বসার জন্য চীনকে আহ্বান জানাচ্ছি। হুমকি এবং আইনি যুদ্ধে জড়িয়ে শান্তিপূর্ণ কোনো সমাধান আসবেনা এবং মতপার্থক্য দূর হবেনা।"

উল্লেখ্য, শুক্রবার বেইজিংয়ে এক ব্রিফিংয়ে চীনের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা সান পিং নতুন বিচারিক নির্দেশিকার ঘোষণা দেন। নতুন নির্দেশনা অনুসারে তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষের কট্টর সমর্থকদের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুতর মামলার ক্ষেত্রে এ শাস্তি প্রযোজ্য হবে।

বেইজিংয়ের জারি করা নির্দেশিকায় দেশকে বিভক্ত ও বিচ্ছিন্নতা উসকে দেওয়ার জন্য তাইওয়ানের স্বাধীনতার কট্টরপন্থী সমর্থকদের শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, স্বাধীনতার প্রচেষ্টায় যারা মূল ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করবেন এবং রাষ্ট্র ও জনগণের মারাত্মক ক্ষতি করবেন, তাদের এ শাস্তি দেওয়া হবে।

নোটিশে বলা হয়েছে, তাইওয়ানের স্বাধীনতার পক্ষে যারা ওকালতি করবেন, তাদের ১০ বছর থেকে শুরু করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

চীনের এ নির্দেশ জারির পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তাইপে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুরো তাইওয়ানে কোনো আইনি এখতিয়ার রাখে না বেইজিং। এ ছাড়া যে নিয়ম মানার জন্য বেইজিং নির্দেশ দিয়েছে, তা তাইওয়ানের জনগণের জন্য মানা বাধ্যতামূলক নয়।

এমআর/