হিলারিকে জড়িয়ে হাসিনার সাম্প্রতিক মন্তব্য উড়িয়ে দিল স্টেট ডিপার্টমেন্ট

হিলারিকে জড়িয়ে হাসিনার সাম্প্রতিক মন্তব্য উড়িয়ে দিল স্টেট ডিপার্টমেন্ট Photo: Mushfiqul Fazal Ansarey, Just News BD

মুশফিকুল ফজল আনসারী, স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট

গত ৫ জুলাই এক সমাবেশে দেয়া ভাষণে শান্তিতে নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেউ আসলে দেখা করবেননা বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে হুমকি দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনসহ বিশ্বের অনেক নেতার অনুরোধ শুনেনি বলে মন্তব্য করেন। প্রফেসর ইঊনূস গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নন, হিলারিকে দিয়ে এমডি পদের জন্য চাপ প্রয়োগ করেছেন, পদ্মাসেতুর ফান্ড বন্ধের জন্য লবিং করা হয়েছে-এমন দাবি প্রসঙ্গে স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, হিলারি ক্লিনটন ১২ বছর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ১২ বছর আগের ঘটনা নিয়ে কোনো মন্তব্য নয়।

মঙ্গলবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট করেসপন্ডেন্ট মুশফিকুল ফজল আনসারী জানতে চান, "সম্প্রতি এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেছেন যে, প্রফেসর ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নন। ড. ইউনূসকে এমডি পদ থেকে না সরাতে হিলারি ক্লিনটন তাকে ফোন করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্মকর্তা এ নিয়ে লবিং করেছেন এবং অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়েছেন। তিনি এটাও দাবি করেন যে, বিশ্বব্যাংক যাতে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন না করে সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র লবিং করেছে। যদিও প্রমাণিত সত্য ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। এবং ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী যেমনটা বলেছেন যে, তিনি ইউনূস ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক বন্ধ করে দিয়েছেন । যদিও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার সুযোগ খোঁজছেন তিনি। এই দুই ইস্যুতে প্রধামন্ত্রীর যে বক্তব্য তার সত্যতা কী স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্পষ্ট করবে?"

জবাবে মিলার বলেন, "আমি মনে করি এটা নিয়ে আমার বলার মতো আদৌ কিছু নেই। আমি যেটা বুঝাতে পারছি সেটা হলো, এটা ১২ বছর আগের ঘটনা। ১২ বছর আগে হিলারি ক্লিনটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। না, এটা নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই।"

উল্লেখ্য, ৫ জুলাই পদ্মা সেতু প্রকল্পের সমাপনী উপলক্ষে সেতুর মাওয়া প্রান্তে আয়োজিত সুধী সমাবেশে শেখ হাসিনা বলেন, "বড় দেশে তাকে (ড. ইউনূস) প্রমোট করে, সে দেশের রাষ্ট্রদূত আমার অফিসে আসেন। আমার অফিসারদের ধমকান। বলেন, এই এমডির পদ না থাকলে এই টাকা (পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন) বন্ধ হয়ে যাবে।"

তিনি বলেন, "এই এমডি পদের জন্য আমার কাছে তদবির করতে হিলারি ক্লিনটন দুইবার ফোন করলেন। শেরি ব্লেয়ার ফোন করলেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি আসলো। পৃথিবীর অনেকেই আসলো। আমি শুধু জিগ্যেস করলাম, এই এমডি পদে কী মধু আছে?"

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাকে হুমকি দেয়ার প্রসঙ্গে টেনে বক্তব্যের এক পর্যায়ে হাসিনা বলেন, "এরপর একজন আন্ডার সেক্রেটারি এলেন, তিনি এসে এমন কিছু কথা বললেন যে আমি সেদিনই তার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিলাম। তা-ই না, আমি বলে দিলাম-আমেরিকা থেকে আর কেউ এলে আমি কারও সঙ্গে দেখা করবো না। আমি আর দেখা করিনি, আমি কারও সঙ্গে আর দেখা করিনি।"

ব্রিফিংয়ে ড. ইউনূস ইস্যুতে অপর একটি প্রশ্ন করেন বাংলাদেশ সরকার সমর্থক এক ব্যক্তি। তার উদ্দেশ্যমূলক প্রশ্নে তিনি জানতে চান, "বাংলাদেশি আমেরিকানদের সংগঠন ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের মামলার আইনগত বিষয় নিয়ে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রদূতের কাছে একটি চিঠি লিখেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তরফে যথাযথ পদক্ষেপের ঘাটতি এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট বাইডেন ড. ইউনূসের পক্ষে দুইটি শক্তিশালী লবি দ্বারা প্রভাবিত। বাংলাদেশে একটি আদালত ড. ইউনূস ট্যাক্স পরিশোধ করছেনা বলে প্রমাণ পেয়েছে। সংগঠনটির উদ্বেগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কী?"

উদ্দেশ্যমূলক নেতিবাচক এই প্রশ্নের ইতিবাচক জবাব দেন মুখপাত্র মিলার। ড. ইউনূসের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে বলেন, "ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রায় সময়ই আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছি, বাংলাদেশের অন্যতম অর্থনৈতিক অংশীদার ড. ইউনূসকে হয়রানি এবং ভয় দেখাতে শ্রম আইনের অপব্যবহার করা হতে পারে। আমরা এটা ভেবে উদ্বিগ্ন যে শ্রম এবং দুর্নীতি দমন আইনের অপব্যবহার আইনের শাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং ভবিষ্যতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্থ করবে।"

এমআর/