আর্জন্টিনাকে সেমিফাইনালে তুললেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ

আর্জন্টিনাকে সেমিফাইনালে তুললেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ

আর্জেন্টিনার সমর্থকরা যখনই জয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখনই যেন এলো ধাক্কা। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে জন ইয়াবোয়াহর ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে ইকুয়েডরকে সমতায় ফেরান কেভিন রদ্রিগেজ। ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত নব্বই মিনিটের খেলা। কোপা আমেরিকার নিয়ম মেনে ম্যাচ চলে যাবে সরাসরি পেনাল্টি শুটআউটে। সেখানে প্রথম শটে গোল করতে ব্যর্থ হন লিওনেল মেসি। মেসি ব্যর্থ হলেও আবারও আর্জেন্টিনার ত্রাণকর্তা হয়ে দাঁড়িয়ে যান এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। দুই পেনাল্টি ঠেকিয়ে আরও একবার নায়ক বনে যান বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক । তার অসাধারণ নৈপুণ্যে ইকুয়েডরকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে গেল আর্জেন্টিনা।

২০২১ সালের কোপা আমেরিকা থেকেই পেনাল্টিতে আর্জেন্টিনার ভরসা মার্টিনেজ। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ঠেকিয়েছিলেন ৩ পেনাল্টি। এরপর বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস আর ফ্রান্সের বিপক্ষে জয় তো ধরা দিল এমি মার্টিনেজের বিশ্বস্ত হাতে। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকাতেও বদলালো না সেই চিত্র।

ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচে শেষ সময়ে গোল হজম করে বিপাকেই পড়েছিল টিম আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে শেষ হওয়ায় ম্যাচটি তাই সরাসরি গড়ায় টাইব্রেকারে। আর্জেন্টিনার হয়ে টাইব্রেকারে প্রথম শটই মিস করেন লিওনেল মেসি। বল ক্রসবারে মারেন। মার্টিনেজ ইকুয়েডরের প্রথম শটটিও ঠেকিয়ে খেলা জমিয়ে তোলেন। এরপর দ্বিতীয় শটটিও ঠেকিয়ে টাইব্রেকারে আবারও ‘অতিমানব’ হয়ে ওঠেন মার্টিনেজ। ইকুয়েডরের হয়ে প্রথম দুটি শট নেওয়া অ্যাঞ্জেল মেনা এবং অ্যালান মিন্দার শট ঠেকান এই গোলরক্ষক। শেষ পেনাল্টিতে নিকোলাস ওটামেন্ডি আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তোলেন।

পুরো ম্যাচেই কাউন্টার এট্যাক থেকে দারুণ কিছু গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলো ইকুয়েডর। প্রথমার্ধে একাধিকবার দল বিপদের মাঝে পড়লেও লিসান্দ্রো মার্টিনেজের গোলে স্বস্তির লিড পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের একেবারে শেষে এসে গোল হজম করতেই হলো আলবিসেলেস্তেদের। পুরো ম্যাচেই ইকুয়েডরের লং বলের সামনে বিপাকে পড়েছিল আর্জেন্টিনা। শেষ পর্যন্ত বিপদটাও হলো সেখানেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের দৃশ্যপট দখলে নেয় ইকুয়েডর। এসময়ে দৃশ্যত এগিয়ে ছিল ইকুয়েডর। আর্জেন্টিনা যেখানে পুরো ৪৫ মিনিটে একবারই কেবল গোলে শট নিয়েছে, সেখানে বারবার আলবিসেলেস্তেদের ডিবক্সে হানা দিয়েছিল এনার ভ্যালেন্সিয়া-ময়সেস কেইসেডোরা। ম্যাচের ৬২ মিনিটে সমতায় ফিরতে পারত তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এনার ভ্যালেন্সিয়ার পেনাল্টি ফিরে আসে বার থেকে।

ম্যাচের ৬৮ মিনিটে প্রথম গোলমুখে শট নেন লিওনেল মেসি, তার ডান পায়ের শট সোজা গোলরক্ষক বরাবর গেলে সেটি তিনি ভালোভাবেই রুখে দেন।

ম্যাচে যখন আর্জেন্টিনা জয়ের সুবাস পাচ্ছে তখনই ম্যাচের ৯২ মিনিটে ইকুয়েডরের কেভিন রড্রিগেজ গোল করে ইকুয়েডরকে সমতায় ফেরান। কোপায় কোন অতিরিক্ত সময়ের নিয়ম না থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।