পাকা ধানক্ষেতে দলবল নিয়ে ঢুকলেন মন্ত্রী-এমপি, মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি!

পাকা ধানক্ষেতে দলবল নিয়ে ঢুকলেন মন্ত্রী-এমপি, মানা হয়নি স্বাস্থ্যবিধি!

সুনামগঞ্জে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে হাওরে ধান কাটলেন দুই মন্ত্রী ও এমপি। বর্তমানে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার যে পরামর্শ তার কোনো কিছুই মানা হয়নি এখানে। উল্টো নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী পাকা ধানক্ষেতে নেমে ধান পাড়িয়ে নষ্ট করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ এলাকা থেকে কৃষিমন্ত্রী ড.আব্দুর রাজ্জাক ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বিশাল গাড়ি বহর নিয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ডুংরিয়া গ্রামের পাশে সাংহাইর হাওরে ধান কাটা পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. জয়াসেন গুপ্তা ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শামীমা শাহরিয়ার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবীর ইমনসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রীদের হাওরের ধান কাটা পরিদর্শন দেখতে আশপাশের বসতি থেকে লোকজন আসায় বেশ জনসমাগম হয়। তখন সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা হয়নি। এ অবস্থাতে কৃষি মন্ত্রী দুজন কৃষকের হাতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার ধান কাটার মেশিনের চাবি তুলে দেন। এসময় সাধারণের ভিড়ে ধান নষ্ট হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

মন্ত্রীদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না করার প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সিভিল সার্জন মো. শামছ উদ্দিন।

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না করে হাওরে ধান কাটার প্রসঙ্গে সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক দাবি করে বলেন, আমরা সামাজিক দূরত্ব মেনে হাওরে ধান কাটতে যাই। কিন্তু জনগণ সে দূরত্ব রক্ষা করতে পারেননি। তারাও আমাদের সঙ্গে হাওরে ধান কাটতে চলে এসেছে। তারা যেভাবে পারছেন সেভাবেই ধান কাটতে এসেছেন। সংবাদকর্মীরাও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলেননি।

তিনি আরো বলেন, হাওরের কৃষক, মজুর মন্ত্রীদের দেখতে তাদের কথা শুনতে আগ্রহ নিয়ে মাঠে এসেছেন। তাদেরকে নিয়ন্ত্রণের জন্য চেষ্টা করা হয়েছে তারপরও পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। আমরা যারা ধান কাটতে ছিলাম তারা সামাজিক দূরত্ব মেনে ছিলাম আমাদের সঙ্গে স্থানীয়রা এসে যোগদান করেন।