মোদি-শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর সীমান্ত ইস্যুতে ভারত-চীনের মতপার্থক্য

মোদি-শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর সীমান্ত ইস্যুতে ভারত-চীনের মতপার্থক্য

ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর সীমান্ত ইস্যু এবং দুই দেশের বৃহত্তর সম্পর্ক নিয়ে ভারত ও চীনের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা গেছে। শনিবারের (১২ সেপ্টেম্বর) বৈঠকের পর প্রকাশিত দুই দেশের বিবৃতিতে স্পষ্ট হয়েছে এই ভিন্নতা।

ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, ২০২০ সালের পর থেকে ভারত বলে আসছে, সীমান্ত পরিস্থিতিকে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কের অবস্থা থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। অন্যদিকে, সীমান্ত বিরোধ অমীমাংসিত থাকলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেয়ার সুযোগ রেখেছে চীন। মোদি ও শির বৈঠকের পর দুই দেশের প্রকাশিত বক্তব্যে সীমান্ত প্রশ্ন ও বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে কীভাবে অগ্রগতি ঘটবে, সে বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান উঠে এসেছে বিবৃতিতে।

২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের বক্তব্যের এই পার্থক্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ওই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা এবং চীনা সেনাবাহিনীর চার সদস্য নিহত হন।

চীনের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই পক্ষের উচিত একই সময়ে নয়াদিল্লি-বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্ক এগিয়ে নেয়া এবং সীমান্ত প্রশ্নের সমাধানে কাজ করা। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে দুই ক্ষেত্রে “‘সমান্তরাল ও পারস্পরিকভাবে শক্তিশালী অগ্রগতি’ অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।

চীনা বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে মতপার্থক্যের বিষয়গুলো দূর করতে হবে। দুই পক্ষের উচিত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেয়া এবং সীমান্ত প্রশ্নের সমাধানে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকা, সমান্তরাল ও পারস্পরিকভাবে শক্তিশালী অগ্রগতি চাওয়া এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।’

তবে সীমান্ত পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে তুলে ভারত। বিবৃতিতে দেশটি বলেছে, নরেন্দ্র মোদি জোর দিয়ে বলেছেন, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অব্যাহত উন্নয়নের একটি অপরিহার্য ভিত্তি। সীমান্তসংক্রান্ত বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতাগুলো উভয় দেশের মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।

ভারতের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই নেতা সীমান্ত প্রশ্নের একটি ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এতে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক এবং উভয় দেশের জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছে।

দুই দেশের বক্তব্যের পার্থক্যের মূল জায়গা হলো অগ্রগতির ক্রম বা বিন্যাস। চীনের বক্তব্যে বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সীমান্ত প্রশ্ন- দুই ক্ষেত্রেই সমান্তরালভাবে অগ্রসর হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের বক্তব্যে সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ভারতের ঘোষিত শর্তটি মূলত মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতিকে ঘিরে। সীমান্ত শান্তিপূর্ণ থাকতে হবে এবং বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতা মেনে চলতে হবে, যা চীনের বিবৃতিতে উল্লেখ নেয়। বরং বেইজিং জানিয়েছে, সীমান্ত প্রশ্ন অমীমাংসিত থাকলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর এই পার্থক্যের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ওই সংঘর্ষ দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়। এরপর থেকে ভারত বলে আসছে, সীমান্ত পরিস্থিতিকে দুই দেশের বৃহত্তর সম্পর্কের অবস্থা থেকে আলাদা করে দেখা যায় না।