ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না বাংলাদেশ

ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না বাংলাদেশ

ইহুদিবাদী ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আগ্রহী নয় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাতে বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

খবরে বলা হয়, ঢাকায় ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ইসরাইল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান আগের মতোই আছে।’ অর্থাৎ ফিলিস্তিনিদের অধিকার, স্বাধীনতা এবং মুক্তির পক্ষেই বাংলাদেশ।

‘ট্রাম্পের বিদায়ের আগে ইসরাইল পঞ্চম মুসলিম দেশের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায়’ শিরোনামে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের একজন মন্ত্রী বুধবার বলেছেন, ট্রাম্পের শাসনামলেই পঞ্চম একটি মুসলিম দেশের সাথে (যথাসম্ভব এশিয়ার দেশ) সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে কাজ করে যাচ্ছে ইসরাইল।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ চারটি দেশের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে ইসরাইল। দেশগুলো হলো- সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান এবং মরক্কো।

ইসরাইলি আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়কমন্ত্রী ওফির আকুনিস ইসরাইলি ওয়াইনেট টিভিকে বলেন, ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্পের বিদায়ের আগেই সংখ্যাগরিষ্ঠ পঞ্চম মুসলিম দেশটির সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে যাচ্ছে তেল আবিব।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করছি আরেকটি মুসলিম দেশের সাথে আমাদের শান্তিচুক্তির ঘোষণা দেবে যুক্তরাষ্ট্র।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, আরো দেশ যাতে ইসরাইলের অস্তিত্বের স্বীকৃতি দেয় সে লক্ষে কাজ করছেন তারা।

আকুনিস বলেন, ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ দুটি দেশ এখন তালিকায় রয়েছে।

দেশ দুটির নাম তিনি প্রকাশে করেননি। বলেন, একটি উপসাগরীয় রাষ্ট্র, সেটি ওমান হতে পারে। তবে সৌদি আরব নয়। আরেকটি পূর্ব এশিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশ।

সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টা ইসরাইল সফর করেন বলে খবর প্রকাশ হয়। ধারণা করা হচ্ছিল আমিরাত, সৌদি আরবের চাপে পড়ে ইসরাইলকে স্বীকৃতি এবং দেশটির সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে যাচ্ছে ইসলামাবাদ। পরে পাকিস্তান জানায়, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরাইলের সাথে কোনো সম্পর্ক নয়।

এদিন ইসরাইলি মন্ত্রীও জানান, দেশটির সাথে সম্পর্ক স্থাপন করতে যাওয়া পরবর্তী মুসলিম দেশ পাকিস্তান নয়।

সর্ববৃহৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া। গেল সপ্তাহে তারা জানায়, ইসরাইলকে তারা স্বীকৃতি দেবে না। ফিলিস্তিনি ভাইদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে তাদের অবস্থান অটল বলেও জানানো হয়।

মালয়েশিয়াও একই ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে আমাদের অবস্থান অপরিবর্তনীয়। বুধবার সিনেট অধিবেশনে তিনি আরো বলেন, ইসরাইলের বিষয়ে অন্য কোনো দেশ কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তাতে মালয়েশিয়া হস্তক্ষেপ করবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্থাপনকে স্বাগত জানিয়েছে ওমান। তবে নিজেরা সম্পর্ক স্থাপন করতে যাচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নে মন্তব্য করেনি দেশটি।

২০১৪ সাল থেকে ইসরাইলের সাথে ফিলিস্তিনের সমঝোতা আলোচনা স্থগিত হয়ে আছে। ইসরাইলের সাথে অন্য মুসলিম দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া, স্থগিত আলোচনাকে আরো দূরে সরিয়ে দিচ্ছে বলে মত বিশ্লেষকদের।