নভেম্বরে ইউপি ভোটে শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি মাছউদ

নভেম্বরে ইউপি ভোটে শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন: ইসি মাছউদ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হবে। শিগগিরই ঘোষণা করা হবে নির্বাচনের তফসিল। এ কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

তবে কবে নাগাদ তফসিল ঘোষণা করা হবে- সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা তিনি জানাননি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার ব্যাপারে ইসির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হবে। যদি এই সময়ের মধ্যে আইন পরিবর্তন না হয়, তবে আমরা বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনা করব।’

স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে ঘোষণা করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের কোনো মন্তব্য না করে তিনি বলেছেন, শিগগিরই ইসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে।

এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। চলতি মাসেই এ নির্বাচনের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে।

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আরও জানিয়েছিলেন, ‘আমরা আশা করছি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন একটা পর্যায়ে গেলে আমরা সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো করব।’

ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তফসিল কবে হবে- সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই মাসের মধ্যেই আপনারা অনেক কিছু দেখবেন এবং অনেক কিছুই আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব। আমাদের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ খুব দ্রুত গতিতে চলছে।’ এ নির্বাচনের তফসিল এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক, বৃত্তি ও টেস্ট পরীক্ষাসহ নানা ব্যস্ততা থাকে। ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহৃত হয় এবং শিক্ষকরাই প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। তাই পরীক্ষার সময়গুলো বাদ দিয়ে, আগে বা পরে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা নির্বাচনগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা এবার আরও সাহসী পদক্ষেপ নিচ্ছি। সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুভমেন্ট দ্রুত করতে ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি বডি-ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো হবে। এছাড়া অপতথ্যের ঝুঁকি মোকাবিলাতেও আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও আচরণবিধিতে কিছু কড়াকড়ি থাকছে। ভিআইপিরা যেন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে না পারেন, সেটির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া পচনশীল নয় এমন দ্রব্য বা পোস্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত সংশোধিত আচরণবিধির প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিলে সহকর্মীরা তার পক্ষে কাজ করেন, যা ভোটকেন্দ্রে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়। শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে এবং শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে তারা যেন নির্বাচনে অংশ না নেন, এমন একটি পর্যবেক্ষণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইসি।