পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প আগামী বছর উদ্বোধন: পানি সম্পদমন্ত্রী

পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প আগামী বছর উদ্বোধন: পানি সম্পদমন্ত্রী

পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিপ্লবের জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করবেন।

শুক্রবার দুপুরে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর-বাহাদুরপুর এলাকায় প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ২৪টি জেলায় অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটবে। কৃষিতে বিপ্লব হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও মাছের চাষসহ আরও নানা কার্যক্রম এ প্রকল্পের আওতায় থাকবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পদ্মা ব্যারেজ বাংলাদেশের একটি মাস্টারসাইন প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের মানুষসহ দেশের ২৪টি জেলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষের এটি স্বপ্ন ছিল।

মন্ত্রী বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি সমীক্ষা সম্পন্ন করে তা একনেকে অনুমোদন করানো হয়েছে। একই সঙ্গে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের মুখে হাসি ফোটানো হবে। নতুনভাবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, দেশীয় অর্থেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। জিওবি অর্থায়নে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সাত বছর মেয়াদি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, নদী, মানুষ, প্রাণ-প্রকৃতি ও খাল খননকে গুরুত্ব দিয়ে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। পানি অপর নাম জীবন। প্রধানমন্ত্রী পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছেন। বাংলাদেশ একটি ব-দ্বীপ হলেও এ ব-দ্বীপকে কেন্দ্র করে আগে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। এখন পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিকল্পনার সূচনা হচ্ছে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. একেএম শাহাবুদ্দিন, রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী প্রমুখ।