সিটি করপোরেশন নির্বাচন: ঢাকায় ১৫৯৭ ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

সিটি করপোরেশন নির্বাচন: ঢাকায় ১৫৯৭ ভোট কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মোট কেন্দ্র এক হাজার ৩১৮টি। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৮৭৬টি। আর ৪৪২টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। অপরদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মোট এক হাজার ১৫০ কেন্দ্রের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৭২১টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ৪২৯টি।

গতকাল বুধবার বিকালে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির রিটানিং কর্মকর্তা যথাক্রমে আবুল কাসেম ও আবদুল বাতেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

দুই সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ইসিকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সে হিসেবে ইসি ওইসব কেন্দ্রে সতর্ক দৃষ্টি রাখবে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ছয়জন অস্ত্রসহ পুলিশ থাকবে। এর মধ্যে একজন উপপরিদর্শক (এসআই) ও পাঁচজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও কনস্টেবল থাকবেন। এ ছাড়া দুজন অস্ত্রসহ আনসার এবং ১০ জন লাঠিসহ আনসার/ভিডিপি সদস্য (এর মধ্যে চারজন নারী ও ছয়জন পুরুষ) মোতায়েন থাকবে।

আর সাধারণ ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রসহ চারজন পুলিশ (এসআই/এএসআই একজন ও তিনজন কনস্টেবল), দুজন অস্ত্রসহ অঙ্গীভূত আনসার, ১০ জন লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার/ভিডিপি সদস্য (চারজন নারী ও ছয়জন পুরুষ) মোতায়েন থাকবে।

উত্তর সিটির ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা পাওয়া গেলেও দক্ষিণ সিটির ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা এখনো পাওয়া যায়নি।

উত্তর সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কার্যলয় সূত্র থেকে জানা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে হাজারীবাগ থানার ১৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ, রামপুরা থানার ৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ, মোহাম্মদপুর থানার ৭২টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ, শেরেবাংলার ৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ৩৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ, আদাবর থানার ৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১টি ঝুঁকিপূর্ণ, তেজগাঁও থানার ৪০টি কেন্দ্রের ৪০টি ঝুঁকিপূর্ণ, হাতিরঝিলের ৬৭টি কেন্দ্রের ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ।

এ ছাড়া মিরপুরের ১২৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২১টি ঝুঁকিপূর্ণ, পল্লবীর ১৪৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৮টি ঝুঁকিপূর্ণ, কাফরুলের ৯০টি কেন্দ্রের সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ, শ্যামলীর ৪১টি কেন্দ্রের মধ্যে ২২টি ঝুঁকিপূর্ণ, দারুসসালামের ৫৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪৩টি ঝুঁকিপূর্ণ, রূপনগরের ৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ। গুলশানের ২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১টি ঝুঁকিপূর্ণ, বনানীর ৪৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ, বাড্ডার ৮৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ, ভাটারার ৬৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ, খিলক্ষেতের ২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১টি ঝুঁকিপূর্ণ, ক্যান্টমেন্টের ১২টি ক কেন্দ্রের মধ্যে দুটি ঝুঁকিপূর্ণ।

সূত্র আরো জানিয়েছে, উত্তরা পূর্ব থানার ১০টি কেন্দ্রের মধ্যে নয়টি ঝুঁকিপূর্ণ, উত্তরা পশ্চিম থানার ২৬টি কেন্দ্রের সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ, বিমানবন্দর থানার ১০টি কেন্দ্রের সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ, তুরাগ থানার ৩৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ, দক্ষিণখান থানার ৬২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ ও উত্তরখান থানার ২৪টি কেন্দ্রের মধ্যে নয়টি ঝুঁকিপূর্ণ।

ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাসেম বলেন, ‘‘গোয়েন্দা সংস্থা থেকে আমাদের এসব তথ্য জানানো হয়েছে। আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ওইসব কেন্দ্রে ইসি সতর্ক’ দৃষ্টি রাখবে।’

ঢাকা দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, ‘নির্বাচনের দিকে যত দিন এগিয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র তত বেড়েছে। আমরা বলি গুরুত্বপূর্ণ আর আপনারা (মিডিয়া) বলেন ঝূঁকিপূর্ণ কেন্দ্র।’

এবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এক হাজার ৩১৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটকক্ষ থাকছে সাত হাজার ৮৫০টি। এ সিটিতে ভোটার ৩০ লাখ নয় হাজার জন। আর দক্ষিণ সিটিতে এক হাজার ১৫০ ভোটকেন্দ্রে থাকবে ছয় হাজার ৫৮৯টি ভোটকক্ষ। এ সিটি করপোরেশনে ভোট ২৪ লাখ ৫২ হাজার।