৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা

৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা

চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টির কারণে দেশের ৪ নদীর চার পয়েন্টের পানি এখন বিপৎসীমার ওপরে। এতে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বিশেষ করে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি ধীরগতিতে বাড়তে পারে। কিছু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে। এতে এসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাতের ফলে বৃহস্পতিবার থেকে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি বাড়ছে। অন্য নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি সমতল কমছে। অপরদিকে, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর ও ভারত আবহাওয়া অধিদফতরের গাণিতিক মডেলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ দিনে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই।

এদিকে নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোয় পানির সমতল কমা অব্যাহত থাকতে পারে, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি সমতল ধীরগতিতে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনা জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি ধীরগতিতে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সুরমা নদীর সিলেট পয়েন্টে পানি এখন বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একইভাবে সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে পানি ২৪ সেন্টিমিটার, একু নদীর গোয়াইনঘাট পয়েন্টে ৫৭ সেন্টিমিটার এবং বাউলাই নদীর খালিয়াজুরি পয়েন্টে পানি এখন বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃষ্টিপাতের বিষয়ে বলা হয়, জাফলং স্টেশনে ৩৯ মিলিমিটার এবং লালাখাল স্টেশনে ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। একইভাবে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৭৫ মিলিমিটার এবং পাসিঘাটে ২৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে কেন্দ্রের ১০ দিনের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থেকে তারপর কমতে পারে। আপাতত আগামী ১০ দিনে ব্রহ্মপুত্র নদীর অববাহিকায় বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে। আপাতত গঙ্গা নদীর অববাহিকায় আগামী ১০ দিনে বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই। ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে। ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর অববাহিকায় বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই।

অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাসহ রংপুর বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্য এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে সিলেটে ১১ মিলিমিটার। এছাড়া শ্রীমঙ্গলে সামান্য বৃষ্টির কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।