চাকরিতে বয়স বৃদ্ধির আন্দোলনে পুলিশের লাঠিপেটা

চাকরিতে বয়স বৃদ্ধির আন্দোলনে পুলিশের লাঠিপেটা

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ করার দাবিতে শাহবাগ মোড়ে সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করেন একদল চাকরিপ্রার্থী। পরে আন্দোলনকারীদের লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। এ সময় দুই শিক্ষার্থীকে আটকের অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।

শুক্রবার বিকালে শাহবাগ মোড়ে ‘চাকরিপ্রত্যাশী যুব প্রজন্ম’ ও ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ’-এর ব্যানারে এই আন্দোলন করা হয়।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন রেজোয়ানা বিন্দু, সোনিয়া হোসেন, মইনুল হাসান, শাওন সোমা, আলী হোসেন। অন্যদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এরা সবাই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে একদল শিক্ষার্থী শাহবাগ মোড়ের চতুর্দিকের রাস্তা অবরোধ করে বসে পড়ে। এ সময় তারা সরকারকে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী চাকরির বয়স বাড়ানোর দাবি জানায়। এতে রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। প্রায় আধঘণ্টা পর ঢাকার রমনা জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) হারুন অর রশীদের নেতৃত্বে পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে। এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে গেলে পুলিশ তাদের ওপর বিনা উসকানিতে হামলা করে। তিন আন্দোলনকারীকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সড়কে অবস্থান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

আন্দোলনকারী মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, ‘ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে পুলিশ ইচ্ছাকৃত আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমরা তরুণদের চাকরির জন্য সুস্পষ্ট দাবি নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে যাচ্ছিলাম। আমাদের এই আন্দোলন চলবে।’

এ সময় ছবি তুলতে গেলে চিত্রসাংবাদিকদের সঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ডিএমপি রমনা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশিদ দুর্ব্যবহার করেন বলে জানা যায়।

রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হারুন অর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শাহবাগ এলাকায় আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ছিল। সেই সময় শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা ৩৫-এর দাবিতে আন্দোলনকারীরা। তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিই আমরা। এছাড়া কোনও গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুদ হাওলাদার জানান, ‘শাহবাগ মোড় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। আন্দোলনকারীরা মোড়ে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। আমরা তাদের প্রথম অনুরোধ করি। অনুরোধ না শোনায় পরে আমরা তাদের সরিয়ে দিই।’

তিনি বলেন, একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যেহেতু কোনও মারামারি বা অন্য কিছু হয়নি, তাই এই ঘটনায় কোনও মামলা হবে না।