বিএনপি ভোটে আসবেও না, নির্বাচন করতেও দেবে না: কাদের

বিএনপি ভোটে আসবেও না, নির্বাচন করতেও দেবে না: কাদের

বিএনপির লক্ষ্য হচ্ছে তারা নির্বাচনে আসবেও না, নির্বাচন করতেও দেবে না—এমনই ধারণা করছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘তাদের কার্যক্রমে তারা বোঝাচ্ছে নির্বাচনে আসবেও না, নির্বাচন করতেও দেবেও না। তারা ২০১৩-১৪ সালের মতো আবারও সন্ত্রাস সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। অশুভ আলামতও আমরা পাচ্ছি। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় যেতে তারা মত্ত হয়ে উঠেছে।’

বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভায় এ কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। দলের কেন্দ্রীয়, ঢাকা মহানগর ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে এই যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি নিতে হবে। নির্বাচন ঠেকাতে একটা চক্রান্ত শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমনও বলেছেন যে নির্বাচনে কোনো খারাপ কিছু ঘটলে এর দায় আওয়ামী লীগকে নিতে হবে। তার মানে, নির্বাচনের সময় খারাপ কিছু ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। তাঁরা ২০১৩-১৫ সালের মতো অগ্নিসন্ত্রাস, ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের দিকে ফিরে যেতে চাইছে।

বিএনপির উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আগুন নিয়ে খেলবেন না। আগুনে নিজেরাই পুড়ে যাবেন। আমরা যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও সাংবিধানিক নির্বাচিত সরকারব্যবস্থার ধারাবাহিকতা সমুন্নত রাখব।’

বিএনপির নেতাদের উদ্দেশে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনের ট্রেন কারও জন্য অপেক্ষা করবে না। জনগণের মুখোমুখি হতে ভয় না পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। আপনারা নির্বাচনে আসতে চাইলে আসবেন, না আসতে চাইলে আসবেন না। আপনাদের জন্য দেশের সার্বিক অগ্রগতি থেমে থাকবে না। গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা কারও জন্য অপেক্ষা করবে না।’

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ করায় বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি হচ্ছে ভোট চুরির মহারাজা। ব্যালট পেপার ছিনতাই করতে ব্যর্থ হয়ে সন্ত্রাসী পাঠিয়ে হাইকোর্টের নির্বাচন পণ্ড করতে দফায় দফায় হামলা করেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে আপনাদের দলের এক নেতা ভোট চুরি করতে গিয়েছিল। এটা ধরা পড়ে গেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্বাচনে জিততে তারা ব্যালট পেপার ছিনতাই করতে গিয়েছে। আজকে সকালে নির্বাচনকে পণ্ড করতে হামলা করেছে। ৪০০ জন সন্ত্রাসী পাঠিয়ে জঙ্গি কায়দায় তারা হামলা পরিচালনা করেছে, ভোট পণ্ড করার জন্য। ব্যালট পেপার ছিনতাই করতে ব্যর্থ হয়ে দফায় দফায় হামলা করেছে।’

ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, ‘এক–এগারো বিরাজনীতিকরণের যে অশুভ তৎপরতা ছিল, সেই বিরাজনীতিকরণের চক্রান্ত আবার শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে হটানোর জন্য আবারও বিদেশ থেকে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সামনের দিনগুলো অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, অত্যন্ত কঠিন। আমি সবাইকে আহ্বান করব, আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার কোনো বিকল্প নাই। আমাদের যেকোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবির নানক; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ।